চলমান উত্তেজনার মধ্যেও পরমাণু চুক্তি ইস্যুতে আলোচনায় বসার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। চলতি সপ্তাহেই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক আয়োজনের উদ্যোগ নিচ্ছে কয়েকটি মধ্যস্থতাকারী দেশ। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তুরস্ক, মিশর ও কাতার যৌথভাবে এই বৈঠক আয়োজনের চেষ্টা করছে। প্রস্তাবিত বৈঠকে হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নিতে পারেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরমাণু চুক্তির আহ্বান জানিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য এবং সামরিক অভিযানের সম্ভাবনার কথা বলা—এগুলো কোনো কৌশলগত প্রতারণা নয়। যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছাতে চায় বলে তারা দাবি করেছেন।
এর মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে ওয়াশিংটন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি এ সামরিক শক্তিকে ‘বিশাল নৌবহর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে তা একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে।
খামেনির এই মন্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন,
“আমাদের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ রয়েছে, যেগুলো ইরানের খুব কাছেই অবস্থান করছে—মাত্র কয়েক দিনের দূরত্বে। আমরা আশা করছি একটি চুক্তি হবে। যদি তা না হয়, তবে তখন বোঝা যাবে তিনি (খামেনি) সঠিক ছিলেন কি না।”
এদিকে রোববার সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
এই সম্ভাব্য বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার পথ খুললে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.