ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল–এর মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে শুরু করেছে। এরই প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ করেই ব্যাপক বেড়ে গেছে।
সোমবার (৯ মার্চ) এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পরই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড–এর ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১৮.৩৫ ডলার বা প্রায় ১৯.৮% বেড়ে ১১১.০৪ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১৬.৫০ ডলার বা ১৮.২% বেড়ে ১০৭.৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।জেপি মরগান–এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ব্রুস কাসম্যান বলেন, “বিশ্ব অর্থনীতি এখনো মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, আর সেগুলোর বড় অংশই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়।”
তিনি রয়টার্স–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, স্বল্পমেয়াদে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।
যুদ্ধের প্রভাবে কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে উৎপাদন কমাতে শুরু করেছে, ইরাক ও কুয়েত তেল উৎপাদন কমিয়েছে। কাতার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে
ইরাকের বসরা তেল কোম্পানি–এর এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা উৎপাদন ৭০ শতাংশ কমিয়ে দিনে প্রায় ১.৩ মিলিয়ন ব্যারেলে নামিয়ে এনেছেন।
এদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ওই প্রণালি দিয়ে চলাচল করা জাহাজে হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে ওই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি দ্বিগুণ হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.