মধ্যপ্রাচ্যে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মধ্যেও উত্তেজনা কমেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের জন্য সব ধরনের হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিলেও, ইসরায়েল লেবাননে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে।
লেবাননের রাজধানী বেইরুত-এ ইসরায়েলের বিমান হামলায় শত শত মানুষ হতাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। নিহত ও আহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আগে থেকেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, লেবানন যুদ্ধবিরতির আওতায় আসবে না। ফলে এই হামলাকে পূর্বপরিকল্পিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে কিছু অর্থনৈতিক ছাড় যেমন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কে শিথিলতা দেওয়া হতে পারে। তবে শর্ত হিসেবে দেশটিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখতে হবে। পাশাপাশি, যারা ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রি করবে, তাদের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
এদিকে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখার বিষয়ে ইরান সম্মত হয়েছে। তবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ শুক্রবার অনুষ্ঠিতব্য আলোচনাকে যুদ্ধের সমাপ্তি হিসেবে দেখছে না তেহরান।
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও উপসাগরীয় দেশ ও লেবাননে হামলা অব্যাহত রয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এর প্রভাব পড়েছে। হামলা স্থগিতের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৫ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং যেকোনো সময় নতুন করে বড় সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.