কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কলম্বিয়ায় সামরিক অভিযান চালানোর ‘বাস্তব হুমকি’ এখন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে একটি ‘সাম্রাজ্য’ হিসেবে দেখে এবং অন্য দেশগুলোকে সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই扱 করছে।
পেত্রোর এই মন্তব্য এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক বক্তব্যের পর, যেখানে তিনি কলম্বিয়ায় সামরিক অভিযান চালানোর প্রসঙ্গে বলেন—এটি “ভালো আইডিয়া মনে হচ্ছে”। পেত্রোর মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই পথেই এগোয়, তাহলে তারা বিশ্বকে নিয়ন্ত্রণকারী শক্তি থেকে ধীরে ধীরে বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দেশে পরিণত হবে।
সাক্ষাৎকারে পেত্রো যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) বাহিনীর কঠোর অভিযানেরও তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আইসিই এজেন্টরা এখন “নাৎসি বাহিনীর মতো আচরণ করছে।” ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ অভিবাসন ও অপরাধ দমনের নামে আইসিই কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করেছে।
পেত্রো বলেন, “আইসিই এখন শুধু লাতিন আমেরিকানদের হয়রানি করছে না, বরং মার্কিন নাগরিকদেরও হত্যা করছে। এটা ভয়ংকর ইঙ্গিত।” মিনিয়াপোলিসে এক অভিযানে এক মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, সেটিকেও তিনি এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন।
এর আগে ট্রাম্প ও পেত্রোর মধ্যে ফোনালাপ হলেও সম্পর্কের উত্তেজনা কমেনি বলে ইঙ্গিত দেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি জানান, প্রায় এক ঘণ্টার সেই ফোনালাপে মাদক পাচার, ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি ও লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। তবে পরদিনই ট্রাম্পের সামরিক হুমকিমূলক মন্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর কলম্বিয়ায়ও একই ধরনের হস্তক্ষেপ হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে পেত্রো বলেন, কলম্বিয়ার ইতিহাস বলে দেয়, দেশটি বড় শক্তির আগ্রাসনের মুখে মানুষ, পাহাড় আর জঙ্গলের শক্তিতেই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধ নয়—তার অগ্রাধিকার সংলাপ ও কূটনীতি।
মাদক পাচার ইস্যুতে ট্রাম্পের অভিযোগ অস্বীকার করে পেত্রো বলেন, গত দুই দশক ধরে তিনি কার্টেলগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন, যার মূল্য হিসেবে তার পরিবারকে নির্বাসনে যেতে হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তার সরকারের ‘টোটাল পিস’ নীতি সহিংসতা কমাতে কাজ করছে এবং কিছু অঞ্চলে কোকা চাষ ও হত্যার হার কমেছে।
শেষ পর্যন্ত পেত্রোর বক্তব্য—যুক্তরাষ্ট্র যদি সাম্রাজ্যবাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সরে না আসে, তবে লাতিন আমেরিকার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও জটিল হবে, আর কলম্বিয়া তার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জনগণের শক্তির ওপরই ভরসা রাখবে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.