যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের পারমাণবিক আলোচনার দ্বিতীয় দফায় অংশ নিতে জেনেভায় পৌঁছেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত নতুন করে শুরু হলে তা আঞ্চলিক যুদ্ধের রূপ নিতে পারে।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আরাঘচি বলেন, “ন্যায্য ও সমতার ভিত্তিতে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আমি বাস্তবসম্মত প্রস্তাব নিয়ে জেনেভায় এসেছি। তবে হুমকির মুখে আত্মসমর্পণ আলোচনার টেবিলে নেই।”
দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র চলতি মাসের শুরুতে ফের আলোচনা শুরু করে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরীসহ যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে।
সোমবার আরাঘচি আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থার (IAEA) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি-র সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পরিদর্শন নিয়ে গভীর কারিগরি আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ইরান বলছে, সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোতে তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি থাকায় পরিদর্শনে বিশেষ প্রোটোকল প্রয়োজন।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, আইএইএ এই আলোচনায় “গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা” পালন করবে। তবে গ্রোসি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার নিন্দা না করায় তেহরান অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
এ ছাড়া আরাঘচি ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদির সঙ্গেও বৈঠক করবেন। তিনিই প্রথম দফার আলোচনায় মধ্যস্থতা করেছিলেন।
ইরান আবারও জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধের প্রস্তাব মানবে না এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে তারা ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচনা করে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া শুরু করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, আইআরজিসির নৌবাহিনী ব্যাপক সামরিক অনুশীলন চালাচ্ছে।
Just completed in-depth technical discussions with Iran’s Foreign Minister @araghchi in preparation for important negotiations scheduled for tomorrow in Geneva. pic.twitter.com/dBAinDrljc
— Rafael Mariano Grossi (@rafaelmgrossi) February 16, 2026
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানে ক্ষমতার পরিবর্তন “সবচেয়ে ভালো ফল” হতে পারে। জেনেভা আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার অংশ নিতে পারেন।
এই আলোচনা এমন সময় হচ্ছে, যখন ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ দমনে সহিংস অভিযানের অভিযোগ উঠেছে। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
ইরানের কট্টরপন্থি রাজনীতিকরা আশঙ্কা করছেন, আলোচনায় বেশি ছাড় দেওয়া হতে পারে। সংসদে দেওয়া বক্তব্যে কট্টরপন্থি আইনপ্রণেতা হামিদ রসাই বলেন, আইএইএকে পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়ার আগে দেশের নিরাপত্তা ও পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে, জেনেভাতেই আলাদা আলোচনায় ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনা হবে। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, কিয়েভকে বারবার ছাড় দিতে বলা হচ্ছে, যা তারা মানতে প্রস্তুত নয়।








Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.