যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে ইস্তাম্বুলে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে ইরান ও তুরস্ক। শুক্রবার (স্থানীয় সময়) তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। একইসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে হাকান ফিদান বলেন, ইরানের ওপর যেকোনো সামরিক হামলার বিরোধিতা করে তুরস্ক। তার ভাষায়,
“যেকোনো আক্রমণ আমরা গ্রহণ করতে পারি না। আমাদের বিশ্বাস, একমাত্র সঠিক পথ হলো সংলাপের মাধ্যমে সমাধান খোঁজা।”
তিনি বলেন, তুরস্কের পররাষ্ট্রনীতির প্রধান অগ্রাধিকার হলো নতুন কোনো যুদ্ধ বা আঞ্চলিক সংঘাত ঠেকানো। কারণ যুদ্ধ ও অস্থিরতা সন্ত্রাসবাদ, গণঅভিবাসন, দারিদ্র্য ও অস্থিতিশীলতা বাড়ায়।
ফিদান আরও জানান, তিনি নিয়মিত ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়গুলো নিয়ে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা করছেন। পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সঙ্গেও তুরস্কের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
“গতকাল স্টিভ উইটকফের সঙ্গে আমার দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে,” বলেন তিনি।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে হুমকি দিচ্ছে— যা সম্পূর্ণ স্ববিরোধী।
তিনি বলেন,
“যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও আচরণে স্পষ্ট বৈপরীত্য রয়েছে। সামরিক হামলা বা হস্তক্ষেপ কোনো বিকল্প নয়।”
তিনি গত বছরের মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে বলেন,
“তারা আগেও এমন করেছে, কিন্তু তাতে কোনো ফল পাওয়া যায়নি। এখন আবার হুমকি দিয়ে আলোচনার কথা বলছে। সামরিক চাপের পুনরাবৃত্তি করলে ফলাফলও একই হবে।”
আরাগচি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু চাপ ও হুমকির মধ্যে কোনো সংলাপ সম্ভব নয়।
“হুমকি দিয়ে আলোচনা শুরু করা যায় না। প্রথমেই তাদের হুমকি বন্ধ করতে হবে।”
তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, ইরান কূটনৈতিক পথ থেকে সরে যাচ্ছে না।
“ন্যায়সংগত ও সমতার ভিত্তিতে আলোচনা হলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কখনোই কূটনীতি পরিত্যাগ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।”
এই বৈঠক ও বক্তব্যগুলো এমন সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে ঘিরে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তুরস্ক ও ইরান— উভয় দেশই যুদ্ধ নয়, বরং সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা নিরসনের ওপর জোর দিচ্ছে।