আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। এতে দেশটি বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা উঠলেও ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সাবেক চেয়ারম্যান এহসান মানির দাবি, এই কারণে পাকিস্তানকে শাস্তি দেওয়ার আইনি এখতিয়ার আইসিসির নেই।
তার যুক্তি, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্তটি পাকিস্তান সরকারিভাবে নিয়েছে। ফলে এটি আইসিসির শৃঙ্খলাভিত্তিক এখতিয়ারের বাইরে পড়ে। পাকিস্তান জানিয়েছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে তারা মাঠে নামবে না। তবে ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে অংশ নেওয়ার অনুমতি সরকার দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, জাতীয় দল বিশ্বকাপে অংশ নেবে, কিন্তু ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে খেলবে না।
স্পোর্টস্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এহসান মানি বলেন,
“সরকারি নির্দেশনা মেনে চললে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া যায় না। এই যুক্তিতেই ভারত ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচগুলো পাকিস্তানে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এখানে দ্বৈত মানদণ্ড চলতে পারে না। সমস্যার সমাধান না করে আইসিসি কেবল দর্শকের ভূমিকায় দাঁড়িয়ে আছে।”

এক সময় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা মানি আরও বলেন, এই পরিস্থিতি কার্যত সরকারগুলোর জন্য ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপের পথ খুলে দিয়েছে—বিশেষ করে যখন পিসিবি চেয়ারম্যান নিজেই পাকিস্তান সরকারের একজন মন্ত্রী।
তবে আইসিসি পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বেছে বেছে ম্যাচ খেললে শাস্তিমূলক পরিণতি হতে পারে। যদিও এখনো তারা পিসিবির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পায়নি। আইসিসির বিবৃতিতে বলা হয়,
“আইসিসি আশা করে পিসিবি এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করবে, কারণ এটি বৈশ্বিক ক্রিকেট ইকোসিস্টেমকে প্রভাবিত করে—যার সদস্য ও উপকারভোগী পিসিবি নিজেই।”
আইসিসি আরও জানায়, জাতীয় নীতির ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা তারা স্বীকার করে, তবে এই সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রিকেট কিংবা পাকিস্তানের সমর্থকদের কল্যাণের পক্ষে নয়। তারা পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করতে পিসিবির সঙ্গে কাজ করতে চায় এবং টুর্নামেন্ট নির্বিঘ্নে আয়োজন করাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
এদিকে পিসিবি জানিয়েছে, সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে তারা অংশগ্রহণের বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করবে এবং এই বয়কট বাংলাদেশের প্রতি সংহতির বহিঃপ্রকাশ। পাকিস্তান তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ৭ ফেব্রুয়ারি নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ১০ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি নামিবিয়ার বিপক্ষে খেলবে। সব ম্যাচই কলম্বোর এসএসসি গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
আইসিসি ইভেন্টে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ ঐতিহ্যগতভাবে সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াই হিসেবে বিবেচিত হয়, যা সর্বোচ্চ দর্শকসংখ্যা, স্পনসরশিপ ও সম্প্রচার আয় এনে দেয়। ম্যাচটি ওয়াকওভার হলে ভারত পূর্ণ দুই পয়েন্ট পাবে, তবে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্প্রচারকারীদের বিজ্ঞাপন আয়ে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ কোটি রুপি পর্যন্ত ক্ষতি হতে পারে।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ওয়াকওভার ঘোষণার জন্য প্রতিপক্ষ দলকে টসের সময় মাঠে উপস্থিত থাকতে হয়। তাই ভারতের কলম্বো সফর করার কথা রয়েছে এবং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব টসের জন্য মাঠে নামবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদি পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগা উপস্থিত না হন, তাহলে ম্যাচ রেফারি ওয়াকওভার ঘোষণা করে ভারতকে দুই পয়েন্ট দিয়ে দেবেন।
এহসান মানির মতে, আনুষ্ঠানিক শাস্তির সম্ভাবনা কম। তবে সবচেয়ে আলোচিত ম্যাচ ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ায়, আইসিসির হাতে আর্থিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থেকেই যাচ্ছে।