রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি ফ্ল্যাটে মা ও মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় চার দিন আগে গৃহকর্মীর কাজ নেওয়া তরুণী ‘আয়েশা’র প্রকৃত নাম-পরিচয় উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করা যায়নি। পুলিশ জানায়, আটক হওয়ার পরই বিস্তারিত পরিচয় ও হত্যার কারণ প্রকাশ করা হবে।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন জানান, ভবনের নিরাপত্তাকর্মীর মাধ্যমে চার দিন আগে ওই তরুণী কাজ পান লায়লা আফরোজ। গৃহকর্মী নিয়মিত সকালে এসে কাজ করে চলে যেতেন। তিনি তার পুরো নাম বা মোবাইল নম্বর দিতে নানা অজুহাত দেখাতেন।
গত সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে শাহজাহান রোডের ১৪ তলা ভবনের সপ্তম তলার ফ্ল্যাটে লায়লা আফরোজ (৪৮) ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিয়াকে (১৫) মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। দুজনকেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে আয়েশা বাসায় প্রবেশ করেন এবং ৯টা ৩৫ মিনিটে নাফিসার স্কুলড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান। বের হওয়ার সময় তিনি বাসা থেকে একটি মোবাইল ফোন, একটি ল্যাপটপ, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মূল্যবান কিছু জিনিসপত্র নিয়ে যান।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, আয়েশা তার প্রকৃত নাম-ঠিকানা মিথ্যা দিয়েছেন। কাজ নেয়ার সময়ও তার সঙ্গে পরিবারের কারও কোনো ফোনালাপ হয়নি। সবসময় বোরকা পরে থাকায় সিসিটিভিতে মুখ পরিষ্কার দেখা যায়নি।
এছাড়া আশপাশের বেশিরভাগ ক্যামেরা অকেজো থাকায় তিনি কোনদিকে পালিয়েছেন, তা জানা কঠিন হয়ে পড়ে। সম্ভাব্য সব পদ্ধতি অনুসরণ করেই তাকে শনাক্ত করা হয়েছে।
নিহত লায়লার স্বামী আ. জ. ম. আজিজুল ইসলাম গৃহকর্মী ‘আয়েশা’কে একমাত্র আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারে বলা হয়, তিনি সকাল ৭টার দিকে স্কুলে গেলে পরে স্ত্রী-মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ না পেয়ে বাসায় ফিরে রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান।
সুরতহাল প্রতিবেদনে জানা যায়, লায়লার শরীরে ৩০টি এবং নাফিসার শরীরে ৪টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার সকালেই তাদের মরদেহ নাটোর পৌরসভার দক্ষিণ বড়গাছায় নেওয়া হয়। জোহরের নামাজের পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।