আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগেই মাঠের বাইরের নানা বিতর্কে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে টুর্নামেন্টটি। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় তৈরি হয়েছে নতুন উত্তেজনা। এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)–কে দায়ী করেছেন পাকিস্তানের সাবেক ব্যাটসম্যান বাসিত আলী।
সম্প্রতি নিজের ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বাসিত আলী বলেন, আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আগেভাগে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তই এই পুরো সংকটের সূচনা করেছে।
২০২৬ আসরের আইপিএল নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে দলে নেয় কেকেআর। কিন্তু রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মুখে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি তাকে ছেড়ে দেয়। বাসিত আলীর মতে, এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও সরকারের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করে, যার প্রভাব পড়ে বিশ্বকাপ আয়োজন ও অংশগ্রহণ নিয়েও।
বাসিত আলী বলেন,
“বিসিসিআই একটি বড় ভুল করেছে। তারা যদি বিশ্বকাপের পর মোস্তাফিজকে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিত, তাহলে পরিস্থিতি এত দূর গড়াত না। এখান থেকেই সমস্যার শুরু। বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছে, আর এখন পাকিস্তানও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।”
বিশ্বকাপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচ ভারত-পাকিস্তান লড়াই নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। পাকিস্তান সরকার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানানো হয়, তারা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে না। আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ জানানো না হলেও, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানাতেই এমন সিদ্ধান্ত—এমনটাই বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এই প্রসঙ্গে বাসিত আলী বলেন,
“পাকিস্তান যদি ভারতের বিপক্ষে না খেলে এবং ভারত দুই পয়েন্ট পেয়ে যায়, তাহলে সেটা ক্রিকেটের জন্য ভালো কিছু হবে না। এতে খেলাটার ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী কোনো দল ম্যাচ না খেললে সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে আর্থিক জরিমানাসহ বিভিন্ন শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। তবে এসব শাস্তি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) জন্য বড় সমস্যা হবে না বলেই মনে করেন বাসিত আলী।
তার ভাষায়,
“পাকিস্তান বোর্ডের আর্থিক সংকট নেই। সরকার যদি এমন সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ক্ষতিপূরণও সরকারই দেবে।”
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ধারাবাহিক এসব বিতর্কে টুর্নামেন্টের ভাবমূর্তি ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, আইসিসি, বিসিসিআই এবং সংশ্লিষ্ট বোর্ডগুলো শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.