যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক মুসলিম ব্রাদারহুডের তিনটি শাখাকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও তাদের সদস্যদের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ কাতার ও তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার আরব নিউজের বরাতে, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ও স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক যৌথ ঘোষণায় জানায়, লেবানন, জর্ডান ও মিসরের মুসলিম ব্রাদারহুড শাখা যুক্তরাষ্ট্র ও তার স্বার্থের জন্য হুমকি তৈরি করছে।
স্টেট ডিপার্টমেন্ট লেবাননের শাখাটিকে Foreign Terrorist Organization (FTO) হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা সবচেয়ে কঠোর শ্রেণিভুক্তি। এর ফলে সংগঠনটিকে আর্থিক বা যেকোনো ধরনের সহায়তা প্রদান যুক্তরাষ্ট্রের আইনে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
অন্যদিকে, ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট জর্ডান ও মিসরের শাখাকে “Specially Designated Global Terrorist (SDGT)” হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এই শাখাগুলো হামাসকে সহায়তা দিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন,
“এই পদক্ষেপ মুসলিম ব্রাদারহুডের বিভিন্ন শাখার সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা রোধে চলমান একটি বৃহৎ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টার অংশ। যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদে জড়িত বা সহায়তাকারী এসব সংগঠনকে সম্পদ ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে।”
রুবিও ও ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট গত বছর ট্রাম্প স্বাক্ষরিত এক নির্বাহী আদেশের আওতায় এই নিষেধাজ্ঞার কাঠামো নির্ধারণের দায়িত্ব পান। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দাবি করেন, এসব সংগঠন সহিংসতা ও অস্থিতিশীল কার্যক্রমে যুক্ত, যা যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য অঞ্চলের জন্য ক্ষতিকর।
তবে মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতারা দীর্ঘদিন ধরেই সহিংসতা পরিত্যাগের দাবি করে আসছেন।
নির্বাহী আদেশে উল্লেখ করা হয়, লেবাননের মুসলিম ব্রাদারহুডের একটি শাখা ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল হামলার পর ইসরায়েলের দিকে রকেট নিক্ষেপে জড়িত ছিল। একই সঙ্গে জর্ডানে সংগঠনটির নেতারা হামাসকে সহায়তা দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।
মুসলিম ব্রাদারহুডের জন্ম ১৯২৮ সালে মিসরে। দেশটিতে সংগঠনটি ২০১৩ সালে নিষিদ্ধ করা হয়। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে জর্ডানও মুসলিম ব্রাদারহুডের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক নাথান ব্রাউন বলেন,
“যুক্তরাষ্ট্রের কিছু মিত্র দেশ—বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসর—এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট হবে। তবে যেসব দেশে মুসলিম ব্রাদারহুড এখনো সহনীয় বা সক্রিয়, যেমন কাতার ও তুরস্ক, সেখানে এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি করতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্তের প্রভাব ভিসা ও রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদনের ক্ষেত্রেও পড়তে পারে—শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, পশ্চিম ইউরোপ ও কানাডাতেও।
উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালেও মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণার বিষয়টি বিবেচনা করেছিলেন। তার কিছু ঘনিষ্ঠ সমর্থক ও ডানপন্থি প্রভাবশালীরাও দীর্ঘদিন ধরে এই সংগঠনের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে আসছেন।
এছাড়া চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্য সরকারও মুসলিম ব্রাদারহুডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে।