যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইরান-এর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাকিস্তান-এর রাজধানী ইসলামাবাদ-এ পৌঁছেছে। এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।
এই সফরকে ঘিরে বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে প্রতিনিধিদল বহনকারী উড়োজাহাজ ‘মিনাব ১৬৮’। আল জাজিরা এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমানের ভেতরে মিনাবের একটি স্কুলে হামলায় নিহত শিশুদের স্মরণে তাদের ছবি, রক্তমাখা স্কুলব্যাগ, জুতা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সাজিয়ে রাখা হয়—যা যুদ্ধের মানবিক বিপর্যয়ের একটি প্রতীকী চিত্র তুলে ধরে।
‘মিনাব ১৬৮’ নামটি রাখা হয়েছে ওই হামলায় নিহত ১৬৮ জনের স্মরণে, যাদের অধিকাংশই ছিল শিশু। গালিবাফ নিজেই সামাজিক মাধ্যমে বিমানের ভেতরের একটি ছবি শেয়ার করে লেখেন, “এই ফ্লাইটে আমার সঙ্গীরা—মিনাব ১৬৮,” যা নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিবিসি-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাব শহরের ‘শাজারে তাইয়্যেবা’ নামের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৮ থেকে ১৪ বছর বয়সী ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়।
শনিবার (১১ এপ্রিল) ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে গালিবাফ বলেন, “ইরানের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অতীতে আলোচনার মাঝেই হামলা চালানো হয়েছে,” এবং স্পষ্ট করে জানান—“আমাদের সদিচ্ছা আছে, কিন্তু আমেরিকানদের ওপর আমাদের আস্থা নেই।”
অন্যদিকে, শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে আরও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে এবং এর প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে শান্তি আলোচনা, অন্যদিকে যুদ্ধের হুমকি—এই দ্বৈত বাস্তবতায় পুরো বিশ্ব নজর রাখছে ইসলামাবাদের বৈঠকের দিকে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.