যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানানোয় জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে দেশটির প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা ও ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের অর্জন রক্ষা তাদের জন্য ‘লাল দাগ’।
শনিবার আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরানি সেনাবাহিনী জানায়, তারা দেশের কৌশলগত অবকাঠামো ও জনসম্পদ রক্ষায় সর্বাত্মক প্রস্তুত। বিবৃতিতে ইসরায়েল ও ‘শত্রু সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে’ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নষ্ট করার ষড়যন্ত্রের জন্য দায়ী করা হয়।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশনায় অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে তারা শত্রুপক্ষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে দৃঢ়ভাবে অবস্থান নেবে।
এদিকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে জানানো হয়, আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে—দেশের নিরাপত্তা ও বিপ্লবের অর্জন রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। এই ঘোষণার আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ইরানের জনগণের প্রতি ওয়াশিংটনের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নেতাদের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো হলে যুক্তরাষ্ট্রও সামরিক প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। তিনি দাবি করেন, ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীরা এমন জায়গা দখল করছে যা কিছু সপ্তাহ আগেও কল্পনাতীত ছিল।
চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি থেকে ইরানজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয় জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ থেকে। পরবর্তীতে তা রূপ নেয় শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনে। বিক্ষোভ চলাকালে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তেহরানের পশ্চিমে কারাজ শহরে ‘দাঙ্গাকারীরা’ একটি পৌর ভবনে আগুন দিয়েছে। অন্যদিকে প্রেস টিভি নিরাপত্তা বাহিনীর নিহত সদস্যদের জানাজা অনুষ্ঠানের ফুটেজ সম্প্রচার করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বিক্ষোভকারীদের ‘নাশকতাকারী’ ও ‘ধ্বংসকারী’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র জনগণের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত এবং কোনো চাপের কাছে মাথানত করবে না।
এদিকে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, টানা ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ইরানে দেশব্যাপী ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য আড়াল করতেই এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট আরোপ করা হয়েছে।
নরওয়ে-ভিত্তিক সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নয়জন শিশু রয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.