জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কারফিউ জারি করে গণহত্যায় উসকানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেবেন আদালত আজ।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেবেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশ দেওয়ার জন্য এই দিনটি নির্ধারণ করা হয়। এর আগে গত ৬ জানুয়ারি সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। শুনানিতে তিনি তার মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে অভিযোগ গঠন না করার পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন।
শুনানিতে আসামিপক্ষ দাবি করে, প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত ফোনালাপটি সালমান ও আনিসুলের নয়। ভয়েস রেকর্ডটি বিদেশি বিশেষজ্ঞ দিয়ে পরীক্ষার আবেদনও জানানো হয়। তবে গত ৪ জানুয়ারি সেই আবেদন নাকচ করে দেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি, প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্র। প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনার ফলে মিরপুর-১, ২, ১০ ও ১৩ নম্বর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র হামলায় বহু ছাত্র-জনতা প্রাণ হারান। তবে এসব সহিংসতা বন্ধে তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্তে মুখ্য ভূমিকা পালন করেন সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক। এ প্রেক্ষাপটে গত বছরের ১৯ জুলাই ফোনে তাদের কথোপকথন হয়। সেই কথোপকথনের একপর্যায়ে ‘ওদের শেষ করে দেওয়া হবে’—এমন বক্তব্য শোনা যায়। এতে কারফিউ জারির মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের দমন করার ইঙ্গিত দেওয়া হয় বলে অভিযোগ প্রসিকিউশনের।
গত ২২ ডিসেম্বর শুনানির সময় চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সেই অডিও রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপন করেন।