বাংলাদেশে আর কোনো ‘মব কালচার’ বা বিশৃঙ্খল গণজমায়েত বরদাশত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, দাবি আদায়ের নামে মহাসড়ক বা সড়ক অবরোধ করার দিন শেষ। এখন থেকে যে কোনো দাবি আইনানুগ ও বৈধ পন্থায় উপস্থাপন করতে হবে, অন্যথায় সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, পুলিশি সংস্কার এবং পাসপোর্ট অফিসে জনভোগান্তি নিরসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
মব ভায়োলেন্স সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি প্রথম দিনই বলেছি—বাংলাদেশে মব কালচার শেষ। যদি কোথাও এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে সরকারের প্রতিক্রিয়া হবে অত্যন্ত কঠোর। মব সৃষ্টি করে সড়ক অবরোধের মাধ্যমে দাবি আদায়ের জমানা শেষ।’
তিনি আরও বলেন, ‘পরীক্ষা দেব না বা আজই রেজাল্ট চাই—এমন দাবি নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা যাবে না। কোনো বৈধ দাবি থাকলে সংশ্লিষ্ট ফোরামে স্মারকলিপি দিন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করুন অথবা আদালতের আশ্রয় নিন। কিন্তু জনভোগান্তি করলে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’
পুলিশের চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের সময় লটারির মাধ্যমে ওসি ও এসপি নিয়োগের বিতর্কিত প্রক্রিয়া বাতিল করা হয়েছে। এখন থেকে নিয়োগ হবে প্রার্থীর সার্ভিস রেকর্ড, দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে।
তিনি বলেন, ‘লটারির মাধ্যমে নিয়োগ কোনোভাবেই স্বচ্ছ ছিল না। এখন থেকে পুলিশ বিভাগ যাকে দক্ষ মনে করবে, তাকেই উপযুক্ত স্থানে পদায়ন করা হবে।’ একই সঙ্গে জেলা পুলিশ সুপারদের রাজনৈতিক প্রটোকল না দিয়ে কেবল বিধিবদ্ধ প্রটোকল অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া মামলাগুলোতে নির্দোষ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কিছু সুবিধাবাদী ব্যক্তি নিরপরাধ মানুষকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করছে। আমরা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি এসব মামলা গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করতে, যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি আইনের নামে হয়রানির শিকার না হন।’
পাসপোর্ট অফিসের ভোগান্তি কমাতে ‘এনলিস্টেড সহায়তাকারী’ নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনলাইনে অভ্যস্ত নন এমন সাধারণ মানুষ নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জের বিনিময়ে নিবন্ধিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সেবা পাবেন। এতে একদিকে কর্মসংস্থান হবে, অন্যদিকে দালালদের দৌরাত্ম্য কমবে।
তিনি আরও জানান, জরুরি ভিত্তিতে পুলিশ বিভাগে ২ হাজার ৭০১ জন কনস্টেবল নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিডিআর বিদ্রোহের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে এবং কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি ২০০৬ সালে নিয়োগবঞ্চিত সাব-ইন্সপেক্টরদের আদালতের রায় অনুযায়ী পুনর্নিয়োগ দেওয়া হবে।
শেষে তিনি বলেন, ‘পুলিশের কাজে কেউ অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। পুলিশ ক্ষমতার অপব্যবহার করলে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তেমনি পুলিশের কাজে বাধা দিলে কাউকেও ছাড় দেওয়া হবে না।’
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.