ভেনেজুয়েলার জ্বালানি তেল খাতে অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই আহ্বানে বড় তেল কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে খুব একটা ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। বরং একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা দেশটিকে বর্তমানে ‘বিনিয়োগের অযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। খবর বিবিসির।
কয়েক মাসের সামরিক চাপ ও হুমকির পর গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে ‘মাদক-সন্ত্রাস’ অভিযোগে বিচার চলছে।
এরপর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ভেনেজুয়েলা কার্যত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং দেশটির বিশাল তেলসম্পদের ওপরও আমেরিকার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি জানান, আগামী কয়েক বছর ভেনেজুয়েলার ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবে ওয়াশিংটন।
এদিকে মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন, যাকে সমর্থন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, যতদিন রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রকে ভেনেজুয়েলার তেলের নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবেন, ততদিনই তিনি ক্ষমতায় থাকতে পারবেন।
মাদুরোর অপহরণের এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে গত ৯ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন তেল কোম্পানির নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন ট্রাম্প। বৈঠকে এক্সন মবিল, শেভরন ও কনোকোফিলিপসের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলার ‘জরাজীর্ণ’ তেল অবকাঠামো নতুন করে গড়ে তোলার মাধ্যমে তেলের উৎপাদনকে ‘নজিরবিহীন উচ্চতায়’ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে তিনি জানান, একটি চুক্তির আওতায় ভেনেজুয়েলা থেকে ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল মার্কিন শোধনাগারগুলোতে পাঠানো হবে, যা যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমাতে সহায়ক হবে।
তবে বৈঠকে বড় কোম্পানিগুলোর সংশয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এক্সন মবিলের সিইও ড্যারেন উডস সরাসরি জানান, অতীতে সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়া এবং চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ভেনেজুয়েলা এখন বিনিয়োগের জন্য অনুপযুক্ত।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলায় সক্রিয় একমাত্র বড় মার্কিন কোম্পানি শেভরন কিছুটা আগ্রহ দেখালেও, কনোকোফিলিপসসহ অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো বড় বিনিয়োগ নিয়ে এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে কয়েকটি ছোট স্বতন্ত্র কোম্পানি ও প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম ট্রাম্পের উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে ট্রাম্প আশ্বাস দিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন বিনিয়োগের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, বড় প্রকল্পে ঝুঁকি কমাতে এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অর্থায়নে সহায়তা দিতে পারে।
একসময় দিনে ৩৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করলেও বর্তমানে ভেনেজুয়েলার উৎপাদন নেমে এসেছে বৈশ্বিক সরবরাহের মাত্র এক শতাংশে। তবে বিশ্বের বৃহত্তম তেল মজুদ থাকায় দেশটি একদিকে যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, অন্যদিকে তেমনি বড় বিনিয়োগ সম্ভাবনার দেশ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.