1. arshinagargroup75@gmail.com : ratul :
  2. abclimited2020@gmail.com : Eng. Firoz-Uz Zaman (MD) : Eng. Firoz-Uz Zaman (MD)
মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:১৬ পূর্বাহ্ন

ভূমি নিবন্ধনের নামে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ ‘প্রাতিষ্ঠানিক’ করছে ইসরায়েল: মানবাধিকার সংগঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬ Time View

অধিকৃত পশ্চিম তীর অঞ্চলে প্রায় ছয় দশক পর ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জমি দখল ও উচ্ছেদকে আইনি কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।

রোববার ইসরায়েল সরকার কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ, বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ-এর প্রস্তাব অনুমোদন করে। এতে ১৯৬৭ সালের পর প্রথমবারের মতো পশ্চিম তীরে ভূমির মালিকানা নিবন্ধন (Settlement of Land Title) প্রক্রিয়া চালু করা হচ্ছে।

ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা বিমকম এক বিবৃতিতে জানায়, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জমি কৌশলগতভাবে দখল করে বসতি সম্প্রসারণ ও ‘বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থা’ আরও পাকাপোক্ত করা হবে।

বিমকমের গবেষণা বিভাগের প্রধান মিখাল ব্রাইয়ার জানান, পশ্চিম তীরে প্রায় ৭০ শতাংশ জমি কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত হয়নি। ফলে বহু ফিলিস্তিনি তাদের জমির মালিকানা প্রমাণ করতে পারবেন না। এমনকি যেসব জমি আগে নিবন্ধিত ছিল, সেগুলোর ক্ষেত্রেও মালিকানা প্রমাণের আইনি মানদণ্ড এত কঠোর যে বেশিরভাগ ফিলিস্তিনির পক্ষে তা পূরণ করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, ব্রিটিশ ও জর্ডান শাসনামলে কিছু জমি নিবন্ধিত হলেও ১৯৬৮ সালে ইসরায়েল অধিকাংশ ভূমি নিষ্পত্তি কার্যক্রম স্থগিত করে দেয়। ফলে পারিবারিক সূত্রে মালিকানা হস্তান্তরের প্রমাণ করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

ইসরায়েলবিরোধী বসতি আন্দোলনের সমালোচক সংগঠন পিস নাও বলছে, এই ভূমি নিবন্ধন কার্যক্রম কার্যত ‘পূর্ণাঙ্গ দখলদারি (Full Annexation)’। সংগঠনটির নেতা হাগিত ওফরান বলেন, “সরকার এমন দলিল চাইছে, যা অনেক ক্ষেত্রে ১০০ বছর আগের। ফিলিস্তিনিদের পক্ষে তা জোগাড় করা প্রায় অসম্ভব। ফলে জমি শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের নামেই নিবন্ধিত হবে।”

গত মাসে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দায়ের করা আবেদন খারিজ করে দেয়। আদালত একে ‘অপরিপক্ব’ (premature) বলে রায় দেয়।

একই ধরনের ভূমি নিবন্ধন প্রক্রিয়া ২০১৮ সাল থেকে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে চালু হয়। বিমকমের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৮-২০২৪ সালের মধ্যে নিবন্ধিত জমির মাত্র ১ শতাংশ ফিলিস্তিনিদের নামে গেছে, বাকিটা ইসরায়েল রাষ্ট্র বা ইসরায়েলি মালিকদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এই পদক্ষেপ অবৈধ। ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এক ঐতিহাসিক মতামতে জানায়, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জমি দখল, জনসংখ্যা স্থানান্তর ও দখলকে বৈধ করার আইন সম্পূর্ণ অবৈধ।

বিমকমের মতে, এই সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য—বসতি সম্প্রসারণ ও ফিলিস্তিনিদের সীমিত এলাকায় ঠেলে দেওয়ার আরেকটি ধাপ।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © arshinagar tv 2025
Design & Develop BY Coder Boss