যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে তেহরান। এর অংশ হিসেবে ভ্রাতৃপ্রতিম ও আঞ্চলিক প্রভাবশালী দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ধারাবাহিক ফোনালাপ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন আরাঘচি। ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করে জয়শঙ্কর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন,
“ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির কাছ থেকে একটি ফোন পেয়েছি। আমরা ইরান এবং তার আশপাশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি।”
এদিকে ইরানে চলমান বিক্ষোভ পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে সেখানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে নয়াদিল্লি। তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক বিবৃতিতে বিক্ষোভপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
এরপর বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই’র সঙ্গে ফোনালাপ করেন আরাঘচি। এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা কমাতে ‘গঠনমূলক ভূমিকা’ রাখতে প্রস্তুত বেইজিং।
চীনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ বা হুমকির নীতি সমর্থন করে না চীন, এবং কোনো দেশ যেন অন্য দেশের ওপর নিজের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে না পারে—সেই অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
ওয়াং ই বলেন, চীন ইরানের সরকার ও জনগণের জাতীয় স্থিতিশীলতা ও বৈধ অধিকার রক্ষার প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে। একইসঙ্গে তিনি সব পক্ষকে ধৈর্য, সংযম ও আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানান।
এদিনই সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন আরাঘচি। দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে পারস্পরিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা।
ফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, দেশটিতে সাম্প্রতিক অস্থিরতার শুরু হয়েছিল শান্তিপূর্ণ অর্থনৈতিক ও শ্রমিক বিক্ষোভের মাধ্যমে। তবে পরে ‘ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট সন্ত্রাসী উপাদানের সংগঠিত তৎপরতায় পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে’ বলে অভিযোগ করেন তিনি।