ইসরায়েল আবারও বৈরুতের দক্ষিণ উপশহর দাহিয়াতে বিমান হামলা চালিয়েছে, যা এক বছর আগে হিজবুল্লাহর সঙ্গে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির আরেকটি স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে বিবেচিত হচ্ছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, হামলার লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর এক কর্মকর্তা।
রবিবারের এই হামলায় হারেত হ্রেইক এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন টার্গেট করা হয়। লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানায়, ভবনটিতে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যার ফলে আশপাশের গাড়ি ও ভবনগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়, যদিও তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর এলাকায় ঘন ধোঁয়ার স্তম্ভ দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা গেছে—লোকজন হামলার জায়গায় ভিড় করে উদ্ধার কার্যক্রমে সহযোগিতা করছে।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অল্টারনেটিভ পলিসি ইনস্টিটিউটের নন-রেসিডেন্ট ফেলো সোহাইব জাওহার বলেন, হামলার লক্ষ্য সম্ভবত হিজবুল্লাহর সামরিক কাঠামো পুনর্গঠনের সঙ্গে যুক্ত একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তার মতে, “এই হামলা দেখিয়ে দিচ্ছে যে লেবানন এমন হামলার বিস্তার থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য কোনো কার্যকর নিশ্চয়তা পাচ্ছে না।”
তিনি আরও বলেন, “লেবানন আলোচনার পথ খুলে দিয়েছে, সীমান্ত এলাকা থেকে অস্ত্র সরিয়েছে, এমনকি রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে শান্তি উদ্যোগও প্রস্তাব করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি ইসরায়েলের পক্ষে যাচ্ছে।”
ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিন দক্ষিণ লেবাননে হামলা চালাচ্ছে এবং কয়েকবার রাজধানী বৈরুতেও আঘাত হেনেছে। তবে গত কয়েক মাস ধরে রাজধানীতে সরাসরি হামলা হয়নি।
এর আগে এই সপ্তাহেই দক্ষিণ লেবাননের আইনে হিলওয়ে ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়। হামলাটি শিবিরের একটি মসজিদের পাশে গাড়ি পার্কিং এলাকায় ঘটেছিল।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র লেবাননকে হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণের জন্য চাপ দিয়ে আসছে। সেপ্টেম্বর মাসে লেবানন সরকার একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করে, যাতে বছরের শেষ নাগাদ সারা দেশেই হিজবুল্লাহর অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহ দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলছে। তবে লেবানন সরকার এসব দাবি অস্বীকার করেছে।