অভিযোগ, অনিয়ম আর আর্থিক জটিলতার নানা গল্প নিয়েই এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)। ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া দ্বাদশ আসরে এবার বেশ কিছু পরিবর্তন আনছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর স্বার্থ রক্ষায় যেমন সুবিধা বাড়ানো হয়েছে, তেমনি নিয়মকানুনেও আসছে কড়াকড়ি।
বিসিবির উচ্চপদস্থ সূত্র জানিয়েছে, এবার থেকে টিকিট, টিভি সম্প্রচার ও ভেন্যু স্বত্ব বিক্রি থেকে পাওয়া মোট আয়ের ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ম্যাচে বিজ্ঞাপন প্রচারের ১৫ শতাংশ সময় পাবে অংশগ্রহণকারী দুই দল। এতে করে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো তাদের নিজস্ব বা স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে।
এটি বিপিএলের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজিদের জন্য এমন সুবিধা আনছে বিসিবি। এর আগে বিশ্বের অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে দলগুলো লভ্যাংশ পেলে, বিপিএলে সেই সুযোগ ছিল না। ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান আগ্রহ হারিয়ে সরে গিয়েছিল।
তবে সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্বাচনে কঠোর নীতিমালাও করছে বোর্ড। এবার দল নিতে আবেদন করার সময়ই ২ কোটি টাকার ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার জমা দিতে হবে। এরপর আলোচনার মাধ্যমে দল বেছে নেওয়া হবে। দল না পেলে জমাকৃত অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। ফ্র্যাঞ্চাইজি অনুমোদনের পর ১০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে, যা খেলোয়াড়দের বকেয়া পারিশ্রমিক পরিশোধে ব্যবহার করতে পারবে বিসিবি।
এছাড়া, এবারের বিপিএল আয়োজনের জন্য মার্কিন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট গ্রুপ আইএমজি’র সঙ্গে চুক্তি করেছে বিসিবি, যারা দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে আইপিএল আয়োজনের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।
আসন্ন বিপিএল শুরু হতে পারে ১৯ ডিসেম্বর, ফাইনাল হওয়ার সম্ভাবনা ১৬ জানুয়ারি। তিনটি ভেন্যু— ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট— থাকছে নিশ্চিতভাবে। রাজশাহীতে নতুন ভেন্যু যুক্ত করার পরিকল্পনা থাকলেও সময়মতো প্রস্তুতি নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে বলে জানিয়েছে বিসিবি।