বিদেশি ঋণ নির্ভরতায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ঝুঁকি বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই–ডিসেম্বর) বৈদেশিক ঋণ পরিশোধে ব্যয় বেড়েছে ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। একই সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুত ঋণ ছাড় কমেছে প্রায় ২৯ শতাংশ এবং নতুন ঋণ ও সহায়তার প্রতিশ্রুতিও কমেছে ১৩ দশমিক ৪২ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পরবর্তী সরকারকে বাস্তবমুখী ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ বাবদ বাংলাদেশকে ব্যয় করতে হয়েছে ২১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এর মধ্যে ঋণের আসল বাবদ পরিশোধ হয়েছে ১৪২ কোটি ৫৩ লাখ ডলার এবং সুদ বাবদ ব্যয় হয়েছে ৭৬ কোটি ৯৬ লাখ ডলার।
মোট হিসাবে, আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণ পরিশোধের ব্যয় বেড়েছে ১০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অথচ এই সময় উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো থেকে ঋণ ও অনুদান মিলেছে ২৪৯ কোটি ৯৭ লাখ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৯ শতাংশ কম।
শুধু অর্থছাড় নয়, কমেছে নতুন ঋণ ও সহায়তার প্রতিশ্রুতিও। ২০২৪–২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে যেখানে বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতি ছিল ২২৯ কোটি ৮৬ লাখ ডলার, চলতি অর্থবছরের একই সময়ে তা নেমে এসেছে ১৯৯ কোটি ডলারে।
অর্থনীতি বিশ্লেষক মো. মাজেদুল হক বলেন,
“মেগা ও উন্নয়ন প্রকল্পসহ প্রায় সব প্রকল্পই এখন বৈদেশিক ঋণনির্ভর হয়ে পড়েছে। রাজস্ব আয় কম থাকায় সরকারকে ঋণ করে পরিচালন ব্যয় চালাতে হচ্ছে। ফলে ঋণ-জিডিপি অনুপাত বাড়লেও কর-জিডিপি অনুপাত ও রপ্তানি আয় সে হারে বাড়ছে না। এতে সামনে ঋণ পরিশোধ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে এবং ঋণের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।”
ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে খাদ্য সহায়তা বাবদ ২ কোটি ৫ লাখ ডলার পাওয়া গেলেও এ খাতে নতুন কোনো ঋণ বা সহায়তার প্রতিশ্রুতি আসেনি।
সব মিলিয়ে বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশের অর্থনীতিকে ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজস্ব আদায় বাড়ানো, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে ঋণ নির্ভরতা কমানো ছাড়া সামনে এই চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.