বাংলাদেশের বিচার বিভাগ নিজেই নিজেকে স্বাধীন মনে করতে চায় না—এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার চৌধুরী।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন’ শীর্ষক নীতি সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
শামীম হায়দার বলেন, ‘যেকোনো অন্যায়কে যদি উৎসাহ দেওয়া হয়, তা একসময় বাউন্স ব্যাক করবেই। একসময় মবকে এলাও করা হয়েছিল। এখন সেই মব সরকার ও নির্বাচন কমিশনকেই গ্রাস করছে। এভাবে চলতে থাকলে পুরো দেশকেও খেয়ে ফেলতে পারে।’
বিচার বিভাগের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে জাপা মহাসচিব বলেন, ‘জুডিসিয়ারি নিজেই নিজেকে স্বাধীন ভাবতে চায় না। একদিকে এসপির অফিস রাজপ্রসাদের মতো, অন্যদিকে জেলা আদালতগুলোর অবস্থা ভয়াবহ। এই বৈষম্যই বিচার বিভাগের প্রকৃত অবস্থানকে প্রকাশ করে।’
তিনি আরও বলেন, বিচারকদের সংখ্যা না বাড়ালে মামলাজট কমানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
তার ভাষায়, ‘জজ না বাড়িয়ে কীভাবে মামলার জট কমাবেন? বাস্তবতা না বুঝে শুধু কথা বললে সমস্যার সমাধান হবে না।’
শামীম হায়দার অভিযোগ করেন, দেশে আইন বিষয়ে আলাদা কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই এবং আইন মন্ত্রণালয় বিচার বিভাগকে যথাযথ সম্মান দেয় না।
তিনি বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয় ও আইনমন্ত্রী বিচারকদের অধস্তন মনে করেন। সম্মান না দিয়ে ধমকের সুরে কথা বলা হয়।’
নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জাপা মহাসচিব বলেন, ‘সংসদে বিচার বিভাগ নিয়ে কথা বললে বিচারপতিরা সামনে এসে প্রশংসা করতেন। কিন্তু আমি যদি কখনো রাজনৈতিকভাবে আটক হই, তখন তারা জামিন দিতে পারবেন কি না—এই প্রশ্নের উত্তর কেউ দিতে পারেনি।’
তার এই বক্তব্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।