চলতি বিগ ব্যাশ লিগে একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে খেলছেন রিশাদ হোসেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে ইতোমধ্যেই নিজের জাত চিনিয়েছেন এই লেগ স্পিনার। শুধু বল হাতে নয়, ফিল্ডিংয়েও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে দলকে জয়ে ভূমিকা রাখছেন তিনি।
রোববার (২৯ ডিসেম্বর) হোবার্টের বেলেরিভ ওভালে মেলবোর্ন রেনিগেডসের বিপক্ষে ম্যাচে ৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন রিশাদ। এর মধ্যে ৯টি ডট বল ছিল তার বোলিংয়ে। তার দল হোবার্ট হারিকেনস ম্যাচটি জেতে ৪ উইকেটে। এই ম্যাচের পরই বিগ ব্যাশে স্পিনারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়ে উঠেছেন রিশাদ।
অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে একজন বাংলাদেশি স্পিনারের এমন পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। রিশাদের বোলিংয়ে লক্ষ্যণীয় বিষয়—যেদিন উইকেট না পেলেও রান খরচ কম রাখেন, আবার যেদিন কিছুটা রান দেন, সেদিন উইকেট তুলে নিয়ে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনেন।
টস জিতে আগে বোলিং নেয় হোবার্ট হারিকেনস। পাওয়ারপ্লে শেষের আগেই বল তুলে দেওয়া হয় রিশাদের হাতে—যা তার ওপর দলের আস্থারই প্রতিফলন। নিজের প্রথম ওভারে কোনো বাউন্ডারি না দিলেও ৮ রান খরচ করেন তিনি।
দ্বিতীয় ওভারে মোহাম্মদ রিজওয়ানের বিপক্ষে দারুণ বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দেন রিশাদ। লেংথ সামান্য বদলে অফ স্টাম্পের বাইরে ডেলিভারি করে রিভার্স সুইপের ফাঁদে ফেলেন রিজওয়ানকে। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ওই ওভারে ৬ রান দিয়ে নেন ১ উইকেট।
নবম ওভারে আবার বোলিংয়ে এসে কিছুটা চড়াও হন রেনিগেডস ব্যাটাররা। দুটি ছক্কা হজম করলেও জেক ফ্রেজার ম্যাগার্ককে আউট করে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ান রিশাদ। শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ তুলে দেন ম্যাগার্ক। শেষ ওভারে মাত্র ৫ রান খরচ করেন এই লেগ স্পিনার।
বিগ ব্যাশে এখন পর্যন্ত হোবার্ট হারিকেনসের হয়ে ৫ ম্যাচে ১৮ ওভার বোলিং করে ৮ উইকেট নিয়েছেন রিশাদ। তার ইকোনমি রেট ৭.৭২। একই দলের আরেক লেগ স্পিনার রেহান আহমেদ ৫ ম্যাচে ১২ ওভার বোলিং করে পেয়েছেন মাত্র ২ উইকেট।
বিগ ব্যাশের উইকেট তালিকায় পেসাররা এগিয়ে থাকলেও, স্পিনারদের মধ্যে রিশাদের উইকেটসংখ্যাই সর্বোচ্চ। ৪ ইনিংসে ৯ উইকেট নিয়ে শীর্ষে আছেন টম কুরান ও হারিস রউফ। ৮ উইকেট নিয়ে তালিকায় পাঁচ নম্বরে আছেন রিশাদ—এবং তিনি একমাত্র স্পিনার, যিনি এই অবস্থানে রয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ান গণমাধ্যম জানিয়েছে, হোবার্ট হারিকেনসে রিশাদকে দলে ভেড়ানোর পেছনে কিংবদন্তি রিকি পন্টিংয়ের ভূমিকা ছিল। আর সেই আস্থার প্রতিদানটা মাঠেই দিচ্ছেন বাংলাদেশের এই তরুণ স্পিনার।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.