হামজা চৌধুরী, শমিত সোমসহ একঝাঁক প্রবাসী ও স্থানীয় প্রতিভাকে ঘিরে বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন দিনের স্বপ্ন দেখছেন সমর্থকরা। সেই স্বপ্নে এবার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সুর যোগ করলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে দেখার অপেক্ষায় আছি আমরা, আশা করি নিকট ভবিষ্যতেই।”
ফিফা সভাপতির মতে, বাংলাদেশের বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা শুধু স্বপ্ন নয় এটি ফিফার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যগুলোরই একটি অংশ। সম্প্রতি এক বাংলাদেশি ফুটবল সমর্থকের প্রশ্নের জবাবে ইনফান্তিনো স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অবশ্যই বাংলাদেশ ফিফা বিশ্বকাপে খেলতে পারবে।”
ইনফান্তিনো জানান, নতুন দেশগুলোকে বিশ্বকাপে সুযোগ করে দেওয়াই ফিফার অন্যতম উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, “ফিফার লক্ষ্য হলো বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশকে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দেওয়া।”
আগামী ২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে ফিফা সভাপতি জানান, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসরে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি নতুন দেশ বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে। আফ্রিকা অঞ্চল থেকে কেপ ভার্দে, কনকাকাফ অঞ্চল থেকে কুরাসাও এবং এশিয়া থেকে উজবেকিস্তান ও জর্ডানের মতো দল প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে।
বাংলাদেশের ফুটবল সম্ভাবনার বিষয়ে আলাদা করে আশাবাদ প্রকাশ করেন ফিফা সভাপতি। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের মতো দারুণ এক ফুটবল জাতি, যেখানে ফুটবল ক্রমেই বেড়ে উঠছে, তাদের অবশ্যই বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ আছে।”
তিনি আরও জানান, ফিফা সরাসরি বাংলাদেশ ফুটবলে বিনিয়োগ করছে। বাফুফের মাধ্যমে চলমান এই বিনিয়োগ দেশের ফুটবল অবকাঠামো ও খেলোয়াড় উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করেন ইনফান্তিনো।
বর্তমানে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ২১১ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৮০তম। পুরুষ ফুটবলে সর্বশেষ বড় সাফল্য এসেছে ২০০৩ সালে, সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের মাধ্যমে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, মোরসালিনদের ঘিরে নতুন করে আশার আলো দেখছে দেশের ফুটবল।
সাফ শিরোপা পুনরুদ্ধার, এশিয়ান কাপে নিয়মিত অংশগ্রহণের পাশাপাশি এখন স্বপ্নের তালিকায় যুক্ত হয়েছে বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখার লক্ষ্যও।
২০২৬ বিশ্বকাপ প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা ৬৪ দলে উন্নীত করার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রেখেছে ফিফা। ফলে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ছে— আর সেই বাড়তি সুযোগ বাংলাদেশের স্বপ্নকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলছে।