জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনীতিতে বিভক্তির বদলে ঐক্য, প্রতিশোধের বদলে ন্যায়বিচার এবং পরিবারতন্ত্রের বদলে মেধার শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠার ডাক দিয়ে যাত্রা শুরু করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। প্রতিষ্ঠার পর রাজপথের আন্দোলনের এক বছরের মধ্যেই জনগণের ভোটে জাতীয় সংসদে জায়গা করে নিয়েছেন দলের ছয় নেতা।
দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মনে করেন, সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি এনসিপি। তবে সংসদে যাওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং আগামী দিনে অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন,
“রাজপথ থেকে সংসদে যাওয়া নতুন দল হিসেবে বড় অর্জন। তবে অন্যভাবে দেখলে আমাদের আরও সুযোগ ছিল, আমরা কিছু সুযোগ হারিয়েছি। সংসদে যাওয়ার মধ্য দিয়ে যে নতুন সুযোগ পেয়েছি, তা কাজে লাগাতে চাই। আমরা রাজপথেও সরব থাকব এবং সামনের দিনগুলোতে অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করতে পারব।”
তিনি দাবি করেন, গত এক বছরে বিভিন্ন শক্তির নানা ষড়যন্ত্র এনসিপির অগ্রযাত্রা থামানোর চেষ্টা করেছে। ভবিষ্যতেও দেশি-বিদেশি সংস্কারবিরোধী ও পতিত শক্তির অপচেষ্টা থেমে থাকবে না বলে আশঙ্কা করেন তিনি।
সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাহিদ ইসলাম বলেন,
“সর্বাত্মকভাবে চেষ্টা করা হয়েছে যেন এনসিপি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দাঁড়াতে না পারে। বাধা আসবে, বিপত্তি আসবে, চ্যালেঞ্জ আসবে—সেগুলো মোকাবিলা করেই এনসিপিকে এগোতে হবে। আমরা মনে করি, এই চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা এনসিপির তৈরি হয়েছে।”
এনসিপি-জামায়াত সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমালোচনাসহই সংস্কার প্রশ্নে জামায়াতে ইসলামী র সঙ্গে ঐক্য রয়েছে এনসিপির। তাঁর ভাষায়,
“জামায়াত সংস্কার ইস্যুতে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারত, সে সমালোচনা আমরা করেছি। নির্বাচন আমরা একসঙ্গে করেছি, সংস্কার প্রশ্নে ঐক্যের জায়গাটা এখনো আছে। শুধু জামায়াত নয়, এগারো দল ও এগারো দলের বাইরেও আমরা ন্যূনতম ঐক্য ধরে রাখতে চাই। তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের কর্মসূচি, কার্যক্রম এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রস্তুতি আমরা আলাদাভাবে নিচ্ছি।”
সংসদে সংস্কার পরিষদ না থাকলে সেখানে এনসিপির পক্ষে বেশিদিন থাকা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম এই সংগঠক। তাঁর মতে, সংস্কার ছাড়া রাজনৈতিক অংশগ্রহণ অর্থবহ হবে না।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.