ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপ ম্যাচ বয়কটের ঘোষণার পর তৈরি হওয়া সংকট নিরসনে পাকিস্তানে পৌঁছেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) তিনি লাহোরে পৌঁছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভির সঙ্গে বৈঠকে বসেন।
এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে পিসিবির মুখপাত্র আমির মির জানান, আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান আজ পিসিবি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় বসবেন। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে তিনি বর্তমান সংকট পরিস্থিতি ও ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করবেন।
এর আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলও পাকিস্তানে পৌঁছান। সূত্র জানায়, পাকিস্তানে অবস্থানকালে আজ অনুষ্ঠিতব্য আইসিসির জরুরি বৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। বৈঠকে অন্যান্য সদস্য দেশের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত থাকতে পারেন।
ঢাকায় ফেরার আগে পিসিবি চেয়ারম্যানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন বিসিবি সভাপতি। ফলে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বয়কট ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
এই অচলাবস্থার সূত্রপাত হয়, যখন পিসিবি আইসিসির পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের অভিযোগ তুলে ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয়। এর পরপরই বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন তোলে।
এদিকে, বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্ক চরম উত্তেজনায় পৌঁছে যায়। ঢাকায় এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়।
এরপর বিসিবি আইসিসির কাছে অনুরোধ জানায়, ভারতের বিপক্ষে তাদের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আয়োজনের জন্য। তবে আইসিসি সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। বিসিবির অনড় অবস্থানের পর বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আইসিসির যুক্তি ছিল, টুর্নামেন্ট শুরুর একেবারে শেষ সময়ে সূচি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।
এদিকে, ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সমাধানের জন্য পিসিবি আইসিসির সঙ্গে সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে সেই দাবি সরাসরি নাকচ করেছে পিসিবি। ভারতীয় সাংবাদিক বিক্রান্ত গুপ্তের এমন দাবির জবাবে পিসিবির মুখপাত্র আমির মির জানান, এ ধরনের কোনো যোগাযোগ হয়নি।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার ম্যাচ ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক ইভেন্টগুলোর একটি। সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ ও বিজ্ঞাপন থেকে এই ম্যাচে শত শত মিলিয়ন ডলার আয় হয়।
বাণিজ্যিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একটি ভারত–পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি ম্যাচের মোট আর্থিক মূল্য প্রায় ৫০ কোটি ডলার। এতে সম্প্রচার স্বত্ব, বিজ্ঞাপন প্রিমিয়াম, স্পনসর কার্যক্রম ও টিকিট বিক্রিসহ বিভিন্ন খাতের আয় অন্তর্ভুক্ত।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে ১০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনের দাম ২৫ থেকে ৪০ লাখ রুপি পর্যন্ত হয়, যা ভারতের অন্য যেকোনো বড় ম্যাচের তুলনায় অনেক বেশি।
সবচেয়ে তাৎক্ষণিক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে অফিসিয়াল সম্প্রচার স্বত্বাধিকারী প্রতিষ্ঠান। শিল্পখাতের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুধু এই একটি ম্যাচ থেকেই প্রায় ৩০০ কোটি রুপি বিজ্ঞাপন আয় হওয়ার কথা ছিল।
বিসিবি প্রধানের পাকিস্তান সফরকে আরেকটি প্রেক্ষাপটে দেখা হচ্ছে—এর আগে ভারতীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল, আইসিসি পর্দার আড়ালে পিসিবির সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে চায় এবং সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজাকে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.