1. arshinagargroup75@gmail.com : ratul :
  2. abclimited2020@gmail.com : Eng. Firoz-Uz Zaman (MD) : Eng. Firoz-Uz Zaman (MD)
সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ০৮:০০ অপরাহ্ন

পাল্টাপাল্টি হামলার আশঙ্কা বড় যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • Update Time : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭ Time View

আবারও মুখোমুখি দাঁড়িয়ে চিরবৈরী যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ক্রমেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, যেখানে যে কোনো মুহূর্তে পাল্টাপাল্টি হামলার সূচনা হতে পারে। ইরানে চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের কড়া অবস্থান এবং তেহরানের পাল্টা হুমকিতে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা নতুন করে জোরালো হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের পক্ষ নিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে তেহরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে—এ ধরনের কোনো হামলা হলে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো সরাসরি ঝুঁকিতে পড়বে। সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিকে অনেকেই যুদ্ধের পূর্বঘণ্টা হিসেবে দেখছেন।

ইরানে বিক্ষোভ দমনের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছিল। এবার সেই চাপ সামরিক রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কাই বাড়ছে। একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন গত কয়েক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ স্থানান্তর করেছে। একই সঙ্গে জোরদার করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায়, তাহলে কি তেহরান চুপ করে থাকবে? সাম্প্রতিক ইতিহাস বলছে, সে সম্ভাবনা কম। গত জুনে নিজেদের পরমাণু স্থাপনায় হামলার জেরে কাতার ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল ইরান। ইসরায়েলের হামলার ক্ষেত্রেও নীরব থাকেনি খামেনি প্রশাসন।

বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা গোটা অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামো ও নাগরিকদের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। কারণ, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যেই রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত প্রায় ৪০ হাজার মার্কিন সেনা ও অসংখ্য সামরিক ঘাঁটি।

কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ১৯টি স্থানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। সবচেয়ে বেশি সেনা মোতায়েন রয়েছে কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে। এ ছাড়া মিসর, ইরাক ও জর্ডানের বিভিন্ন ঘাঁটি থেকেও ইরানের ওপর নজরদারি চালানো হয় এবং নিয়মিত সামরিক মহড়াও অনুষ্ঠিত হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি কাতারের আল উদেইদ এয়ারবেস। প্রায় ৬০ একর আয়তনের এই ঘাঁটিতে অবস্থান করছেন প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা ও তাদের পরিবার। এখানে মোতায়েন রয়েছে শতাধিক যুদ্ধবিমান। অন্যদিকে বাহরাইনের নৌঘাঁটি থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের নৌ-সহায়তা পরিচালিত হয়, যেখানে রয়েছে মার্কিন নেভির পঞ্চম নৌবহর ও গুরুত্বপূর্ণ বিমানবাহী রণতরী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও পূর্ণ সক্ষমতা নিয়ে হামলা চালাতে পারলে ইরান এসব মার্কিন ঘাঁটিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি সাধন করতে পারে। তবে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার সক্ষমতা ইরানের আছে কি না—সে বিষয়ে এখনো সংশয় রয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি অবস্থানে মধ্যপ্রাচ্য ফের অনিশ্চয়তার দিকে এগোচ্ছে। কূটনীতির পথ বন্ধ হলে যে সংঘাত বড় রূপ নিতে পারে—সে আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © arshinagar tv 2025
Design & Develop BY Coder Boss