জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, “নির্বাচনী পরিবেশ কেমন হতে পারে, তার একটি টেস্ট ম্যাচ গতকাল ঢাকায় দেখা গেছে।” তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদী কায়দায় পুলিশ আবারও তার “নগ্ন রূপে” ফিরে গেছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে যশোর শহরের দড়াটানা ভৈরব চত্বরে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ এখন দুটি পক্ষে বিভক্ত।
একটি পক্ষ জুলুম ও নিপীড়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তারা মা-বোনদের হিজাব ও জামাকাপড় খুলে নিতে বাধ্য করতে চায়।
অন্য পক্ষ ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, “আগামী ১২ তারিখে ভোট দাঁড়িপাল্লা ও শাপলা কলিতেই দিতে হবে। তাহলেই মানুষ জুলুম থেকে মুক্তি পাবে।”
তিনি আরও দাবি করেন, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষ এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নীরব চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজরা আবার ফিরে এলে ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত হবে এবং চাঁদা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে হবে।
“এ কারণেই সাধারণ মানুষ চাঁদাবাজি থেকে মুক্তি চায়,” বলেন তিনি।
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে আবেগঘন বক্তব্য দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন,
“আপনারা যে পোশাক পরিধান করছেন, তা আপনাদের যোগ্যতা ও মেধার ফল। আপনাদের ঘরে সন্তান আছে, মা-বাবা আছে। বিগত তিনটি নির্বাচনের মতো আবার যদি ঘুষের টাকা স্পর্শ করেন, আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠবে।”
তিনি পুলিশের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন,
“আপনারা সিদ্ধান্ত নেবেন—আগামীর বাংলাদেশ সন্তানের ভবিষ্যৎ চাঁদাবাজদের হাতে তুলে দেবেন, নাকি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে তুলবেন।”
হাসনাত আরও বলেন,
“পুলিশ ভাইয়েরা, আপনারা বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকুন, কোনো রাজনৈতিক দলের কাছে নয়। রাজনৈতিক দলের কাছে দায়বদ্ধ হলে কী পরিণতি হয়, তা গত জুলাইয়ে দেখেছেন।”
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, পুলিশ জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন পান।
“আপনারা কোনো রাজনৈতিক দলের চাকরি করতে আসেননি, এসেছেন বাংলাদেশের জনগণের চাকরি করতে। আজ যদি কোনো রাজনৈতিক দলকে পৃষ্ঠপোষকতা দিয়ে ক্ষমতায় আনেন, আগামীকাল আপনার সন্তানের চাকরির জন্য সেই দলকেই ঘুষ দিতে হবে।”
তিনি বলেন,
“আমরা পুলিশের বন্ধু। আমরা চাই একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই দেশকে সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে।”যশোর জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রধান সমন্বয়ক মুহা. নুরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন যশোর-৩ (সদর) আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আব্দুল কাদের।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক শাকিব শাহরিয়ারসহ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
বক্তব্য শেষে নেতাকর্মীরা শহরে একটি মিছিল বের করেন। নেতাকর্মীরা জানান, যশোরের কর্মসূচি শেষে বিকেলে হাসনাত আব্দুল্লাহ খুলনার কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।