মাসের পর মাস হুমকি ও চাপের কৌশলের পর অবশেষে ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অভিযানের সময় মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিউইয়র্কের একটি ডিটেনশন সেন্টারে নেয়া হয়েছে, যেখানে তাকে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক পাচার সংশ্লিষ্ট গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তাকে যুক্তরাষ্ট্রে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।
এদিকে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই ঘটনাকে সরাসরি ‘অপহরণ’ আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “নিকোলাস মাদুরোই ভেনেজুয়েলার একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট। তাকে জোরপূর্বক আটক আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।”
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ভেনেজুয়েলা ‘চালাবে’ এবং দেশটির বিপুল তেল সম্পদ ব্যবহার করবে। তবে কীভাবে এবং কোন কাঠামোর মাধ্যমে এটি করা হবে—সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সোমবার (৫ জানুয়ারি) জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক নজির’ বলে মন্তব্য করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় মার্কিন অভিযানের প্রভাব শুধু লাতিন আমেরিকাতেই নয়, বরং বৈশ্বিক রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।