দীর্ঘ কয়েক মাসের হুমকি, নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপের পর ভেনেজুয়েলায় সরাসরি বিমান হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অভিযানের পর তাকে আটক করে নিউইয়র্কের একটি ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়েছে, যেখানে তার বিচার অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে পৌঁছান মাদুরো। এর আগে কারাকাসে মার্কিন বাহিনীর অভিযানে তাকে আটক করা হয়। এই ঘটনাকে ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ‘অপহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “নিকোলাস মাদুরোই ভেনেজুয়েলার একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট।”
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন ভেনেজুয়েলা ‘পরিচালনা’ করবে এবং দেশটির বিপুল তেল সম্পদ ব্যবহার করবে। তবে কীভাবে এবং কোন কাঠামোর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এই নিয়ন্ত্রণ চালাবে—সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি ট্রাম্প।
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, একটি সার্বভৌম দেশের প্রেসিডেন্টকে এভাবে আটক করা ‘বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত’ স্থাপন করছে।
ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি নিয়ে আগামী সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ এবং এর আন্তর্জাতিক আইনি প্রভাব নিয়ে আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা শুধু ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিই নয়, বরং পুরো লাতিন আমেরিকা ও বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।