চলতি বছর দেশের তৈরি পোশাক, চা-বাগান, বেসরকারি পাটকলসহ মোট ১৩ খাতের মজুরি বৃদ্ধি পাবে। শ্রমিক প্রতিনিধিরা মনে করছেন, এতে উচ্চমূল্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি মিলবে। তবে মজুরিকাঠামো স্বচ্ছ ও সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ না হলে শ্রমিক অসন্তোষ এড়ানো কঠিন হতে পারে।
মজুরি বৃদ্ধির পেছনের কারণ ও প্রেক্ষাপট, দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের শ্রম সংস্থা (আইএলও), যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের শ্রম আইন সংস্কারের আহ্বান জানাচ্ছিল। ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের নভেম্বরে জারি করা হয় বাংলাদেশ শ্রম অধ্যাদেশ। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শ্রমিকদের মজুরি তিন বছর অন্তর বাড়ানো হবে, যা পূর্বে পাঁচ বছর অন্তর হতো। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে তৈরি পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি ৮,০০০ টাকা থেকে ১২,৫০০ টাকায় বৃদ্ধি করা হয়।
শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিক্রিয়া, শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তাসলিমা আখতার বলেন, “মজুরি তিন বছর অন্তর নির্ধারণ শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।” ইন্ডাস্ট্রিয়াল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাবেক মহাসচিব সালাউদ্দিন স্বপন উল্লেখ করেন, “বর্তমান মজুরি কাঠামোতে বেসিকের অনুপাত ৬৫% থেকে কমে ৫১% হওয়ায় শ্রমিকদের জন্য উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।” উদ্যোক্তারা মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে আপত্তি না থাকলেও সুনির্দিষ্ট ও স্বচ্ছ পদ্ধতি চাচ্ছেন। স্প্যারো গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শোভন ইসলাম বলেন, “মজুরি নিয়ে অস্থিরতা ও শ্রম অসন্তোষ উৎপাদন ব্যাহত করে এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও ঝুঁকির মুখে পড়ে।”
অর্থনীতিবিদদের বলছেন ,ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে যৌক্তিক দর কষাকষি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে উদ্যোক্তারা বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে পারেন। ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “মজুরি পুনর্বীক্ষণের সক্ষমতা ধরে রাখতে উদ্যোক্তাদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা জরুরি।” ড. মাহফুজ কবির যোগ করেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য ঠিক রাখতে ট্রেড ইউনিয়নগুলোকে তাদের দাবি জোরালোভাবে উপস্থাপন করতে হবে।”
ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৪২টি খাতের মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর আরও ১৭টি খাতের মজুরি নির্ধারণের কাজ চলমান।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.