চরম খাদ্য সংকটে ধুঁকছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। অবরোধ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা সেখানে প্রবেশ করতে পারছে না। তীব্র শীতের মধ্যেই খাদ্য, ত্রাণ ও চিকিৎসা সহায়তার আশায় দিন কাটাচ্ছেন হাজারো মানুষ। জাতিসংঘ জানিয়েছে, গাজা পুনর্গঠনের পরিকল্পনার আগেই জরুরি ভিত্তিতে মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজার বাস্তব পরিস্থিতির তেমন পরিবর্তন হয়নি। উপত্যকায় ত্রাণ প্রবেশের কথা শোনা গেলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন নেই। সীমান্ত খোলা থাকার ঘোষণা এলেও বাস্তবে খাদ্য ও সহায়তা প্রবেশ অত্যন্ত সীমিত। ফলে দিন দিন বাড়ছে দুর্ভোগ, চরম আকার নিচ্ছে খাদ্য সংকট।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় খাবারের জন্য রীতিমতো সংগ্রাম করছেন বাসিন্দারা। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) খান ইউনিসের পশ্চিমাঞ্চলের আল-মাওয়াসি এলাকায় খাবারের আশায় ভিড় করেন কয়েকশ মানুষ। এক মুঠো ভাত ও সামান্য মাংস পাওয়ার আশায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। অনেকেই সকাল থেকে কয়েক কিলোমিটার হেঁটে খাবারের সন্ধানে সেখানে পৌঁছান।
জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা বলছেন, গাজার জন্য সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপ হলো প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক জটিলতা কমিয়ে দ্রুত ত্রাণ প্রবেশের পথ খুলে দেওয়া। মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া একসঙ্গে চালাতে হবে, নইলে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে।
পশ্চিম তীরেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গত এক বছরে সেখানে তিনটি শরণার্থী শিবির ধ্বংস করা হয়েছে। অভিযানের নামে দমন-পীড়ন ও হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, তীব্র অভাব ও গৃহহীনতার মুখে পড়ছে হাজারো মানুষ।
এদিকে গাজাকে নতুন করে গড়ে তোলার একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ‘নিউ গাজা’ নামে এই পরিকল্পনায় পুরো ভূখণ্ডকে নতুনভাবে পুনর্গঠনের কথা বলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।
এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের ঘোষণাও দেওয়া হয়। এই বোর্ডের দায়িত্ব হবে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করা।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্লাইড শোতে ভূমধ্যসাগরের তীরজুড়ে সারি সারি উঁচু ভবন নির্মাণের ধারণা তুলে ধরা হয়। রাফাহ এলাকায় একটি বড় আবাসিক প্রকল্পের কথাও জানানো হয়। মানচিত্রে দেখানো হয়েছে, গাজার প্রায় ২১ লাখ মানুষের জন্য ধাপে ধাপে নতুন আবাসিক এলাকা, কৃষিজমি ও শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনা।