ভারত সফররত আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সংবাদ সম্মেলনে কোনো নারী সাংবাদিককে না রাখায় দেশজুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১০ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে নারী সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
শনিবার (১১ অক্টোবর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (এমইএ) জানায়, নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে ভারতের কোনো ভূমিকা ছিল না। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, আমন্ত্রণপত্রগুলো আফগানিস্তানের মুম্বাই কনসাল জেনারেলের মাধ্যমে নির্বাচিত সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো হয়েছিল, এবং আফগান দূতাবাস এলাকা ভারত সরকারের এখতিয়ারভুক্ত নয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, তালেবান দূতাবাসে আয়োজিত ওই সম্মেলনে সব নারী সাংবাদিকদের বাদ দেওয়া হয়, যদিও তারা ‘ড্রেস কোড’ মেনে চলেছিলেন। সম্প্রতি তালেবান সরকার নারীদের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, যার মধ্যে কর্মস্থলে নিষেধাজ্ঞা, বিশ্ববিদ্যালয়ে নারীদের লেখা বই নিষিদ্ধ করা, এবং নারী সমাজবিজ্ঞান, মানবাধিকারসহ ১৮টি কোর্স বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত রয়েছে।
এ ঘটনায় ভারতের বিরোধী নেতারা কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, “যখন নারী সাংবাদিকদের বাদ দেওয়া হয় এবং সরকার নীরব থাকে, তখন তা ভারতের প্রতিটি নারীর প্রতি অবমাননা।” কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে এই ঘটনার বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।
সাবেক মন্ত্রী পি চিদাম্বরম বলেন, “যখন নারী সাংবাদিকদের বাদ দেওয়া হলো, তখন পুরুষ সাংবাদিকদের উচিত ছিল প্রেস কনফারেন্স থেকে ওয়াক আউট করা।”
উল্লেখ্য, মুত্তাকি বৃহস্পতিবার ভারত সফরে আসেন এবং শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। এই বৈঠকে কাবুলে ভারতের কারিগরি মিশনকে দূতাবাসে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বাগত জানান।