বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর পূর্বাচলের ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফুট সড়ক) পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সংবর্ধনাস্থলকে ঘিরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন। চারপাশে ভেসে বেড়াচ্ছে—
‘বগুড়ার মাটি, তারেক ভাইয়ের ঘাঁটি’,
‘মা, মাটি ডাকছে—তারেক রহমান আসছে’,
‘তারেক ভাই বীরের বেশে, আসবে ফিরে বাংলাদেশে’,
‘তারেক রহমান ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’—এমন নানা স্লোগান।
নেতাকর্মীরা জানান, প্রিয় নেতাকে একনজর দেখতে ও স্বাগত জানাতেই তারা ঢাকায় এসেছেন। বুধবার সকাল থেকেই কিশোরগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, কুষ্টিয়া, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, রংপুর, বগুড়া ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা মঞ্চ এলাকায় জড়ো হতে শুরু করেন।
রাজশাহী থেকে আসা শফিকুল বলেন, “দীর্ঘদিন পর দলের শীর্ষ নেতা দেশে ফিরছেন—এ কারণেই এত মানুষের ঢল।”
বগুড়া থেকে আসা শামসুল জানান, “গতকাল দুপুরে এসে সারারাত রাস্তাতেই ছিলাম। ঠান্ডা ছিল, কিন্তু নেতাকে দেখার অপেক্ষা সব কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছে।”
ভোলা থেকে আসা মহসিন বলেন, “এত দূর শুধু একনজর দেখার জন্যই ছুটে এসেছি।”
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তারেক রহমান সরাসরি ৩৬ জুলাই এক্সপ্রেসওয়ের সংবর্ধনাস্থলে যোগ দেবেন। সেখানে তিনিই একমাত্র বক্তা হিসেবে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখবেন। সংবর্ধনা শেষে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে তার মা, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
উল্লেখ্য, বুধবার লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে তার বহনকারী বিমান সিলেটে অবতরণ করে। প্রায় এক ঘণ্টার যাত্রাবিরতির পর সকাল ১১টা ১০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয় বিমানটি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুপুরের আগেই তার অবতরণের কথা রয়েছে।
২০০৭ সালে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় ১৮ মাস কারাবন্দি থাকার পর ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য সপরিবারে লন্ডনে যান তারেক রহমান। এরপর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনি জটিলতায় দেশে ফেরা সম্ভব হয়নি। অবশেষে দীর্ঘ সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরলেন তিনি।