তাইওয়ানকে ঘিরে ব্যাপক সামরিক মহড়া শুরু করেছে চীন। এই মহড়াকে তাইওয়ানপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে ‘কঠোর সতর্কবার্তা’ বলে উল্লেখ করেছে বেইজিং। চীনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই মহড়ার মাধ্যমে তাদের যুদ্ধ প্রস্তুতি ও যৌথ সামরিক সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) চীনের পূর্বাঞ্চলীয় থিয়েটার কমান্ড জানায়, ‘জাস্ট মিশন ২০২৫’ নামে এই মহড়ায় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী ও রকেট ফোর্স অংশ নিচ্ছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর থেকে তাইওয়ান ঘিরে পাঁচটি অঞ্চলে ১০ ঘণ্টার জন্য সমুদ্র ও আকাশপথে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হবে।
চীনা সামরিক মুখপাত্র শি ই বলেন, এই মহড়ার মূল লক্ষ্য হচ্ছে সমুদ্র ও আকাশে যৌথ টহল, গুরুত্বপূর্ণ বন্দর ও কৌশলগত এলাকা অবরোধের অনুশীলন এবং বহুমাত্রিক প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রদর্শন। লাইভ-ফায়ার মহড়ার সময় সাধারণ জাহাজ ও বিমানকে নির্ধারিত এলাকা এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই মহড়ায় তাইওয়ানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর—উত্তরের কিলুং ও দক্ষিণের কাওশিয়াং—কেন্দ্র করে অবরোধ পরিস্থিতির অনুশীলন করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বিদেশি সামরিক হস্তক্ষেপ ঠেকানোর স্পষ্ট বার্তা।
এই মহড়া এমন সময় শুরু হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের জন্য ১১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সংঘাতে জাপানের ভূমিকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বেইজিং।
তাইওয়ান সরকার চীনের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্সিয়াল দপ্তর এক বিবৃতিতে চীনকে উস্কানিমূলক আচরণ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আঞ্চলিক শান্তি বিনষ্ট না করার অনুরোধ করেছে।
এদিকে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চীনের অন্তত ১১টি জাহাজ ও দুইটি সামরিক বিমান দ্বীপটির আশপাশে অবস্থান করেছে। তাইওয়ানের সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া মহড়া চালানো হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মহড়া চীনের সামরিক আধুনিকায়নের অগ্রগতি এবং তাইওয়ান ইস্যুতে বেইজিংয়ের কৌশলগত দৃঢ়তার স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।