মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইল–এর নেতৃত্বাধীন সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের নিরাপত্তা কাঠামো ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব সরাসরি চাপের মুখে পড়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে হওয়া হামলায় এমন কিছু এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–এর সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, তেহরানের শেমিরান এলাকায় প্রেসিডেন্টের প্রাসাদের কাছাকাছি এবং খামেনির কমপাউন্ডের আশপাশে অন্তত সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল খামেনির দপ্তরের আশপাশের এলাকাও।
বর্তমানে খামেনি কোথায় অবস্থান করছেন, তা নিশ্চিত নয়। রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, তিনি তেহরান ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন।
৮৬ বছর বয়সী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দেশটির প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেইনির উত্তরসূরি। ইরানের সামরিক বাহিনী, বিচার বিভাগ ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার সর্বোচ্চ কর্তৃত্ব তার হাতেই কেন্দ্রীভূত। আধ্যাত্মিক নেতার ভূমিকাও তিনি পালন করেন।
পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই তার বিরোধ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে তিনি ‘ইরানের প্রধান শত্রু’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং ইসরাইলকেও শীর্ষ শত্রুর তালিকায় রেখেছেন। তার ক্ষমতার ভিত্তি মূলত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ও বাসিজ প্যারামিলিটারি বাহিনীর আনুগত্যের ওপর দাঁড়িয়ে।
মার্কিন ও ইসরাইলি কর্মকর্তারা আগেও খামেনিকে নিশানায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু প্রকাশ্যে বলেছেন, খামেনিকে লক্ষ্য করার বিষয়টি তারা কখনোই বাদ দেননি।
ট্রাম্পও বিভিন্ন সময়ে খামেনিকে সতর্ক করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, খামেনিকে “খুব উদ্বিগ্ন” হওয়া উচিত। এমনকি ইরানে সরকার পরিবর্তনের কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। ২০২২ সালের এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেছিলেন, খামেনি “সহজলভ্য লক্ষ্য”, তবে তিনি তখন ‘নিরাপদ’ অবস্থায় ছিলেন।
সাম্প্রতিক হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের নৌঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র কেন্দ্র এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দুর্বল করা। আল জাজিরার সাংবাদিক আলি হাসেমের মতে, এই আক্রমণের উদ্দেশ্য মূলত রাজনৈতিক নেতৃত্বকে আঘাত করা। তবে এতে কতটা সফলতা এসেছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
এই হামলা ইরানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কৌশল নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
আল জাজিরা
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.