দুর্নীতিমূলক কার্যকলাপ, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভোট গণনায় অনিয়ম ও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ এনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনের ফলাফল স্থগিতের আবেদন করেছেন বিএনপির পরাজিত প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) তিনি নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত হয়ে লিখিত আবেদন জমা দেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার আরমান ১৫ হাজার ৮৫৭ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। তিনি মোট ৯৬ হাজার ৭৮৪ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৯২৭ ভোট।
ব্যারিস্টার আরমান আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে প্রায় আট বছর ধরে গুমের শিকার ছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শহীদ মীর কাসেম আলীর ছেলে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার সারা দেশে ২৯৯টি আসনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে আগেই ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনেই দীর্ঘ ১৮ মাস পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। বিদেশি পর্যবেক্ষকরা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে সামগ্রিকভাবে ‘সন্তোষজনক’ বলে অভিহিত করেছেন।
ভোট প্রদান শেষে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন,
“আজকের দিনটি নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আগামীর বাংলাদেশ গড়বে।”
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.