আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৫৫৬টি। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে এই বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগরীর ২ হাজার ১৩১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৬৯৫টি অতি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ১ হাজার ১৩৩টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে পুলিশ বডি-ওয়্যার্ন-ক্যামেরা ও সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় এবার নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এর অংশ হিসেবে লটারির মাধ্যমে ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার নিয়োগ এবং একই প্রক্রিয়ায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) বদলি করা হয়েছে। নির্বাচনের করণীয় ও বর্জনীয় বিষয়ে প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনা অনুযায়ী,
অতি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে মোতায়েন থাকবে তিনজন পুলিশ সদস্য,
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দুইজন,
এবং সাধারণ কেন্দ্রে একজন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
পুলিশ জানিয়েছে, যেকোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা ঘটলে বডি-ওয়্যার্ন-ক্যামেরা ও সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ভোটারদের মধ্যে এখনো মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ বলছেন, ভোট দেওয়ার মতো পরিবেশ দেখলে তবেই কেন্দ্রে যাবেন। আবার কেউ মনে করছেন, এবারের পরিবেশ তুলনামূলক ভালো এবং নির্ভয়ে ভোট দেওয়া সম্ভব হবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি এবং গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থির করার চেষ্টা হতে পারে। অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, অতীতে ভোটকেন্দ্র দখলের যে মানসিকতা দেখা গেছে, তার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা এখনো রয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে দেশব্যাপী অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ চলমান রয়েছে। রাজধানীর ভোটকেন্দ্রগুলোর জন্য বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির মিডিয়া শাখার ডিসি তালেবুর রহমান জানান, ভোটকেন্দ্রগুলোর অবস্থান ও ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনায় এনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পৃথক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, আনসারসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট।