যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নতুন করে সামরিক হামলার অজুহাত দিতে চায় না ইরান—এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। ইরানের বিচার বিভাগ বর্তমানে বিক্ষোভকারীদের তিনটি পৃথক শ্রেণিতে ভাগ করে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফোয়াদ ইজাদি।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তেহরান থেকে অধ্যাপক ইজাদি বলেন,
‘প্রথম শ্রেণিতে রয়েছেন যারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত। দ্বিতীয় শ্রেণিতে তারা, যারা মসজিদ ও দোকানপাটে আগুন দিয়েছে। আর তৃতীয় শ্রেণিতে রয়েছেন তারা, যারা শুধু বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন।’
তিনি জানান, প্রতিটি মামলাই আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং অভিযুক্ত প্রত্যেকের জন্য আইনজীবী নিশ্চিত করা হবে। ইজাদির ভাষায়,
‘বিচার বিভাগের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে যেন প্রাণহানির সংখ্যা যতটা সম্ভব কম রাখা যায়। কারণ ইরান চায় না ট্রাম্প আবার হামলার কোনো অজুহাত পাক।’
সম্প্রতি ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড বা হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়ে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইজাদি বলেন,
‘ইরানিরা মানবাধিকার নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে বিশ্বাস করে না। তবে তিনি যখন ইরানে হামলার কথা বলেন, তখন তারা সেটাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়।’
বিশ্লেষকদের মতে, এই কারণেই ইরান সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে অত্যন্ত সতর্কভাবে বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চাইছে, যাতে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি না হয়।