রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে একজন কার্যকর নেতা হিসেবে প্রশংসা করেছেন, যিনি শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। তবে একইসঙ্গে তিনি ট্রাম্পের দেওয়া পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েন সংক্রান্ত বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
মেদভেদেভ বলেন, ট্রাম্প একজন ‘শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী’ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্মরণীয় হতে চান এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানের জন্য একটি শান্তিচুক্তির কথা বারবার বলে আসছেন। এ প্রেক্ষাপটে চলতি সপ্তাহে আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্প রাশিয়ার জন্য ইতিবাচক না নেতিবাচক—এমন প্রশ্নের জবাবে মেদভেদেভ বলেন,
“আমেরিকান জনগণ ট্রাম্পকে নির্বাচিত করেছে এবং মস্কো সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করে।”
তিনি আরও বলেন, মার্কিন প্রতিনিধিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সাহস প্রশংসনীয় এবং তার কাজের ধরন অনেক সময় কার্যকর ফল দেয়।
মেদভেদেভ বলেন,
“তিনি একজন আবেগপ্রবণ মানুষ। কিন্তু যেসব বিশৃঙ্খলার কথা প্রায়ই বলা হয়, সেগুলো শুধু ট্রাম্পের কারণেই সবসময় তৈরি হয়—এমন নয়।”
রয়টার্স, তাস এবং রুশ যুদ্ধব্লগার ওয়ারগনজোকে দেওয়া যৌথ সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেন মেদভেদেভ।
এর আগে ‘যুদ্ধের ঝুঁকি’ নিয়ে মেদভেদেভের একটি মন্তব্যকে ট্রাম্প উস্কানিমূলক বলে আখ্যা দেন। তার প্রতিক্রিয়ায় গত আগস্টে ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি দুটি মার্কিন পারমাণবিক সাবমেরিনকে রাশিয়ার কাছাকাছি অঞ্চলে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
এই প্রসঙ্গে মেদভেদেভ বলেন,
“আমরা এখনও সেই সাবমেরিনগুলো খুঁজে পাইনি।”
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মেদভেদেভ নিয়মিতভাবে কিয়েভ ও পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে আসছেন। একইসঙ্গে তিনি যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পারমাণবিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলেও বারবার সতর্ক করেছেন।
বর্তমানে রাশিয়া ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে রাখলেও পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চলের পুরো অংশ এখনো দখল করতে পারেনি। ওপেন-সোর্স যুদ্ধ মানচিত্র অনুযায়ী, ওই এলাকায় ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রায় ১০ শতাংশ এলাকা বা প্রায় ৫ হাজার বর্গকিলোমিটার (১,৯০০ বর্গমাইল) নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
উল্লেখ্য, দিমিত্রি মেদভেদেভ ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বর্তমানে দেশটির নিরাপত্তা নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।