আসন্ন আইসিসি টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল অংশ নেবে কি না—এ বিষয়ে আজই (শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারি) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম জিও নিউজ।
সূত্র জানায়, আজ সন্ধ্যা ৬টায় (স্থানীয় সময়) পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকেই বিশ্বকাপে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ বিষয়ে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বিশ্বকাপ ঘিরে এই অনিশ্চয়তার সূত্রপাত হয় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল ভারতে বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তাদের ম্যাচের ভেন্যু ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে। এর পরই আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করে।
বাংলাদেশ বাদ পড়ার পরপরই পাকিস্তানের টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পিসিবি পক্ষ থেকে বিশ্বকাপ বয়কটের ইঙ্গিতও দেওয়া হয়। বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ায় গত ২৬ জানুয়ারি পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে সম্ভাব্য বয়কট ও বিকল্প ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।
সূত্র জানায়, আজকের বৈঠকের পরই পাকিস্তানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। একই সঙ্গে ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে যে জাতীয় দলের বিশ্বকাপ জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়েছিল, সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে সেটিও প্রকাশ করা হতে পারে।
বিশ্বকাপে অংশ না নিলে বিকল্প পরিকল্পনাও প্রস্তুত রেখেছে পিসিবি। সে ক্ষেত্রে লাহোরে চার দলের একটি টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হবে। পাকিস্তান অনূর্ধ্ব–১৮ দল ও শাহিনস অনূর্ধ্ব–১৮ দলকে ভাগ করে চারটি দল গঠন করে এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে বোর্ড সংশ্লিষ্ট সূত্র।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণআন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে নয়াদিল্লিতে আশ্রয় নেওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে ক্রিকেট অঙ্গনেও।
বাংলাদেশের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে নিলাম থেকে দলে ভেড়ালেও বিসিসিআইয়ের নির্দেশনায় তাকে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদ হিসেবে বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার নিষিদ্ধ করা হয় এবং বিশ্বকাপের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের দাবি জানানো হয়।
এই পরিস্থিতি দক্ষিণ এশীয় ক্রিকেটে আগের উত্তেজনাকেই নতুন করে সামনে এনেছে। গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সময় রাজনৈতিক কারণে ভারত পাকিস্তান সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। ২০২৩ এশিয়া কাপের মতোই টুর্নামেন্ট বাঁচাতে তখন ‘হাইব্রিড মডেল’ গ্রহণ করা হয়, যেখানে ভারত তাদের ম্যাচগুলো দুবাইয়ে খেলেছিল।
২০২৭ সাল পর্যন্ত কার্যকর এই চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো আইসিসি ইভেন্টে ভারত ও পাকিস্তান নিরপেক্ষ ভেন্যুতে একে অপরের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে। সেই অনুযায়ী আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের কথা রয়েছে।
এ অবস্থায় আজকের বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছে পুরো ক্রিকেটবিশ্ব। পাকিস্তান বিশ্বকাপে খেলবে কি না—এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি দলের ভবিষ্যৎ নয়, বরং টুর্নামেন্টের সামগ্রিক কাঠামোর ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.