1. arshinagargroup75@gmail.com : ratul :
  2. abclimited2020@gmail.com : Eng. Firoz-Uz Zaman (MD) : Eng. Firoz-Uz Zaman (MD)
রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন

টাইম ম্যাগাজিনের বিশ্লেষণ: বাংলাদেশের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করাই তারেক রহমানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

নিউজডেস্ক
  • Update Time : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৫ Time View

বিশ্বখ্যাত সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশের অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর এটি ছিল প্রথম জাতীয় নির্বাচন। ওই নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর দল আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণের সুযোগ পায়নি।

এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামপন্থি দল জামায়াতে ইসলামী একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। ১৯৭১ সালের পর থেকে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পর্যায়ক্রমে ক্ষমতায় থাকলেও জামায়াত কখনো এককভাবে ক্ষমতায় ছিল না। তবে এবারের নির্বাচনে তারা বিশেষ করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তবর্তী এলাকায় উল্লেখযোগ্য সমর্থন পেয়েছে।

সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপি সরকার নতুন আইন প্রণয়নে স্বাধীনতা পেলেও অর্থনীতিতে ব্যর্থ হলে একদিকে জামায়াত এবং অন্যদিকে আওয়ামী লীগের সুপ্ত জনসমর্থনের চাপের মুখে পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

টাইম ম্যাগাজিন বলছে, কর্মসংস্থান ও দুর্নীতি নিয়ে তরুণ প্রজন্মের অসন্তোষ সহজে কমবে না। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে তারেক রহমানকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। তবে তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করবে অর্থনীতিতে তিনি কতটা সাফল্য আনতে পারেন, তার ওপর।

বিএনপি ঘোষণা দিয়েছে, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের নামমাত্র জিডিপি ৪৬০ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ ট্রিলিয়ন ডলারে নেওয়া হবে। এই লক্ষ্য অর্জনে বছরে প্রায় ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন, যেখানে বর্তমানে প্রবৃদ্ধি প্রায় ৪ শতাংশ। দলটি শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬ শতাংশ এবং স্বাস্থ্য খাতে ০.৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এত বড় লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজনীয় রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা এখনো উপস্থাপন করা হয়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশে উন্নীত না করতে পারলে প্রবৃদ্ধির হার দ্বিগুণ করা সম্ভব নয়।

গত দেড় বছর ধরে উচ্চ সুদহার অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। অনেকের মতে, শুধু মুদ্রানীতিই নয়; বরং বাজার ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতাই উচ্চ খাদ্যমূল্যের প্রধান কারণ। এটিকে তারেক রহমান সরকারের একটি বড় দুর্বলতা হিসেবে উল্লেখ করেছে টাইম।

বাংলাদেশের মোট জিডিপির প্রায় ১২ শতাংশ আসে কৃষি খাত থেকে এবং প্রায় ৫ কোটি মানুষ এই খাতের সঙ্গে যুক্ত। শহরে খাদ্যের দাম কমাতে এবং কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে খামার থেকে শহর পর্যন্ত খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় থাকা শক্তিশালী মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে ম্যাগাজিনটি। একই সঙ্গে ফসল কাটার পরবর্তী সংরক্ষণ ও পরিবহন খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনাকে আরেকটি বড় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখেছে টাইম। প্রায় ১ কোটি বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মী বিদেশে কাজ করেন, যাদের পাঠানো অর্থ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ টিকিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে। মাত্র তিন মাসে প্রবাসীরা প্রায় ৭.৫ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের পুরো সহায়তা প্যাকেজের সমান।

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেক প্রবাসী অবৈধ হুন্ডি ছেড়ে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে ফিরে আসেন। ফলে ২০২৩ সালের ২১ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স বেড়ে ২০২৫ সালে ৩০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। তবে অবৈধ চ্যানেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল হলে এই বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি কাজের সন্ধানে বিদেশে যান। কিন্তু শ্রমবাজারে দুর্নীতি ও শোষণ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করায় দেশটি বিপজ্জনকভাবে সৌদি আরবের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন সংক্রান্ত প্রতিবেদনের নেতৃত্ব দেন অর্থনীতিবিদ খান আহমেদ সাঈদ মুরশিদ। তিনি বলেন, বড় পরিকল্পনার পাশাপাশি ‘উচ্চ-প্রভাবশালী ছোট প্রকল্পে’ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত আর্থিক খাত সংস্কারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে উঠে এসেছে ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ, যার ফলে বাণিজ্যিক সুবিধা হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রেও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন তারেক রহমান। বিএনপি নির্বাচনি ইশতেহারে আসিয়ান-এ যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করলেও প্রথম বক্তব্যে তিনি সার্ক-এর ওপর জোর দেন। সার্ক বর্তমানে কার্যত অকার্যকর একটি সংস্থা।

বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমার-এর সীমান্ত রয়েছে এবং দেশটি ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর বোঝা বহন করছে। আসিয়ানে যোগ দিলে বৈচিত্র্যময় সরবরাহ শৃঙ্খল ও বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারত-এর সঙ্গে সম্পর্কও জটিল হয়ে উঠেছে। শেখ হাসিনার পতনের পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং ভিসা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। বিদ্যুৎ আমদানিতে Adani Group-এর সঙ্গে চুক্তি নিয়েও সমালোচনা রয়েছে।

টাইম ম্যাগাজিনের মতে, সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে যুক্তরাষ্ট্রচীন-এর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা। চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের প্রধান সরবরাহকারী। বেইজিং Belt and Road Initiative-এর আওতায় বাংলাদেশে ২৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানির সবচেয়ে বড় বাজার এবং জ্বালানি খাতে বড় বিনিয়োগকারী। ওয়াশিংটন চায় বাংলাদেশ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের সুস্পষ্ট বার্তা দিক।

সব মিলিয়ে টাইম ম্যাগাজিন বলছে, নতুন সরকার প্রধান হিসেবে তারেক রহমানের সামনে সুযোগ যেমন বড়, তেমনি চ্যালেঞ্জও বিশাল। অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারলেই তিনি নিজেকে একজন কার্যকর রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © arshinagar tv 2025
Design & Develop BY Coder Boss