বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে সমর্থকদের ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাস সবসময়ই ছিল অনন্য। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় পারফরম্যান্সে হতাশ হয়ে কিছু দর্শকের আচরণে হতবাক ক্রিকেট বিশ্ব। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি–টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার দিনেও গ্যালারি থেকে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের উদ্দেশে দুয়ো ও কটূক্তি শোনা যায়।
এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান কোচ ও সাবেক বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ড্যারেন স্যামি।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ড্যারেন স্যামি বলেন—
“তারা যেভাবে নিজেদের খেলোয়াড়দের ট্রিট করেছে, সেটা আমি মোটেও পছন্দ করিনি। আমি শুনেছি তারা ‘ভুয়া, ভুয়া’ বলে চিৎকার করছিল। আমি জানি এর মানে কী—এটা খুবই অসম্মানজনক। একজন প্রকৃত সমর্থক সব সময় তার দলের পাশে দাঁড়ায়, এমনকি খারাপ সময়েও।”
স্যামির মতে, প্রতিটি ক্রিকেটারই ভালো পারফরম্যান্সের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে, তাই গালাগালি বা কটূক্তি নয়, বরং ইতিবাচক সমর্থনই খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস জোগায়।
গতকাল (৩১ অক্টোবর) সিরিজের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে ৫ উইকেটে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ফলে তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজে ৩–০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয় টাইগাররা।
বাংলাদেশ আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ১৫১ রানে অলআউট হয়। তানজিদ তামিম একাই দলকে ভরসা দেন—
৬২ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ৮৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তবে বাকিদের ব্যাট একেবারেই নীরব ছিল; কেবল সাইফ হাসান (২৩) দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেন।
জবাবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রোস্টন চেজ ও আকিম অগুস্তের অর্ধশতকে ভর করে ১৬.৫ ওভারে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে সফরকারীরা।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক রোস্টন চেজ বলেন—
“পুরো সিরিজে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে পার্টনারশিপ। বাংলাদেশ কোনো ম্যাচেই বড় পার্টনারশিপ গড়তে পারেনি। এই ধরনের উইকেটে দুই ব্যাটার সেট হয়ে গেলে যতক্ষণ সম্ভব টিকে থাকতে হয়। ওরা সেটা পারেনি।”
তৃতীয় ম্যাচেও গ্যালারি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। কিন্তু দলের ব্যর্থতায় দর্শকদের হতাশা রূপ নেয় ক্ষোভে। ফিল্ডিংয়ের সময় স্টেডিয়ামজুড়ে “ভুয়া, ভুয়া” স্লোগান ওঠে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
দল খারাপ খেললে সমালোচনা হওয়া স্বাভাবিক, কিন্তু গালাগালি নয়, সহানুভূতি ও সমর্থনই খেলোয়াড়দের পুনর্জীবিত করতে পারে—এই বার্তাই দিতে চেয়েছেন স্যামি।