দেশে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় নতুন করে বিদেশি ঋণের সন্ধানে নেমেছে সরকার। আমদানি নির্ভরতার কারণে বাড়তি চাপ সামাল দিতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে।
১৮ কোটি মানুষের দেশে তেলের বড় অংশই আমদানি করতে হয়। ক্রুড ও রিফাইন্ড ফুয়েল আমদানিতে বছরে প্রায় ১ হাজার কোটি ডলার ব্যয় হয়। গবেষণা সংস্থা জিরো কার্বন অ্যানালিটিক্স (জেডসিএ) জানিয়েছে, মার্চ মাসে ২ লাখ ৯৩ হাজার টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা থাকলেও এর মধ্যে ৬০ হাজার টনের অর্ডার বাতিল হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় বছরে আরও প্রায় ৫০০ কোটি ডলার বাড়তে পারে, যা ২০২৫ সালের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি।
এ পরিস্থিতিতে সরকারকে ঋণ সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সঙ্গে ১৩০ কোটি ডলার ছাড় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৫০ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা অনুমোদন দিয়েছে, যা বাড়িয়ে ৭৫ থেকে ১০০ কোটি ডলার করা হতে পারে।
অন্যদিকে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) ২১০ কোটি ডলার ঋণ দিতে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সহযোগীআন্তর্জাতিক অর্থায়ন কর্পোরেশন (আইএফসি) থেকেও আসতে পারে আরও ৫০ কোটি ডলার। এসব অর্থ জ্বালানি আমদানিতে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আস্থা তৈরি হয়েছে, যা বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়িয়ে অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করবে।
তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, ঋণের পরিমাণ বাড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভে চাপ বাড়বে। এতে আমদানি সক্ষমতা (ইমপোর্ট কভার) ৫ মাসের নিচে নেমে আসতে পারে এবং মূল্যস্ফীতিও বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আইনুল ইসলাম বলেন, এই চাপ সরকারকেই বহন করতে হবে, ভোক্তার ওপর চাপানো যাবে না। তিনি স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়ার দিকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন।
উল্লেখ্য, চলতি মাসে জ্বালানি তেল নিয়ে ১৮টি জাহাজ আসার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত পৌঁছেছে মাত্র ৯টি।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.