শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের একটি বৈধ প্রার্থীর মৃত্যুতে ওই আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী প্রার্থীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিত করার বিধান রয়েছে, সে অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত প্রায় ৩টার দিকে কিডনিজনিত জটিলতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল। বিষয়টি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ঘটনায় স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে তৈরি হয়েছিল নানা প্রশ্ন—ওই আসনে ভোট হবে কি না, অথবা নির্বাচন কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে। অবশেষে ইসি স্পষ্ট করে জানাল, আইন অনুযায়ী শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন আপাতত স্থগিত থাকবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কোনো প্রার্থীর মৃত্যু হলে নির্বাচন কীভাবে পরিচালিত হবে—সে বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এ সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।
আরপিও’র অনুচ্ছেদ ১৭-এর উপধারা (১) অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হওয়ার পর এবং ভোটগ্রহণের আগেই যদি কোনো বৈধভাবে মনোনীত প্রার্থী মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে স্থগিত বা বাতিল করতে হবে।
এ ক্ষেত্রে প্রার্থীকে অবশ্যই নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ‘বৈধ প্রার্থী’ হিসেবে স্বীকৃত হতে হবে। প্রার্থীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা একটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ওই আসনের নির্বাচনী কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেবেন।
পরে ওই আসনে নতুন করে নির্বাচনের জন্য পুনঃতফসিল ঘোষণা করা হবে। আগে যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ছিল, তাদের নতুন করে মনোনয়নপত্র দাখিল বা জামানত জমা দিতে হবে না। কেবল নতুন প্রার্থীরা চাইলে নির্ধারিত নিয়মে মনোনয়ন দাখিল করতে পারবেন।
এদিকে, জামায়াত প্রার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। একই সঙ্গে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় শেরপুর-৩ আসনের ভোটারদের নতুন তফসিল ঘোষণার অপেক্ষায় থাকতে হবে।