1. arshinagargroup75@gmail.com : ratul :
  2. abclimited2020@gmail.com : Eng. Firoz-Uz Zaman (MD) : Eng. Firoz-Uz Zaman (MD)
বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ও বিশ্বকাপের আয়োজকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে ভারত, অনিশ্চয়তায় বাংলাদেশও

স্পোর্টস ডেস্ক
  • Update Time : বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৬ Time View

ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত চলমান টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগেই রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আইসিসির কাছে নিজেদের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের আবেদন করেছিল। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করলে আইসিসির বিরুদ্ধে ‘দ্বিচারিতা’র অভিযোগ তোলে পিসিবি এবং বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচ বয়কটের হুমকি দেয়।

আইসিসি, বিসিসিআই ও পিসিবির মধ্যে আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয় এবং ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। তবে এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে পড়তে পারে ভারতের ওপর। জানা গেছে, ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ হিসেবে পরিচিত ভারত ২০২৯ ও ২০৩১ সালের আইসিসি ইভেন্টের আয়োজকত্ব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। এতে করে ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সহ-আয়োজক হিসেবে থাকা বাংলাদেশ-এর অবস্থানও অনিশ্চয়তায় পড়তে যাচ্ছে।

বর্তমানে ২০৩১ সাল পর্যন্ত ভারতের হাতে দুটি বড় বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের আয়োজকত্ব রয়েছে—২০২৯ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আইসিসি, বিসিসিআই ও পিসিবির মধ্যে হওয়া ‘হাইব্রিড মডেল’ চুক্তি অনুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের দেশে বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ম্যাচ খেলবে না; বরং নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ আয়োজন করা হবে।

গত বছর পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আনুষ্ঠানিক আয়োজক হলেও ভারতের সব ম্যাচ হয়েছিল দুবাইয়ে। চলতি বছর বিসিসিআই টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজন করলে শ্রীলঙ্কাকে সহ-আয়োজক করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, চলমান বিশ্বকাপকে ঘিরে সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ভারত ২০২৯ ও ২০৩১ সালের টুর্নামেন্টের আয়োজকত্ব হারাতে পারে। আইসিসি বিকল্প আয়োজক হিসেবে অস্ট্রেলিয়াকে বিবেচনা করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের নাম রয়েছে।

এই সংকটের সূত্রপাত হয় জানুয়ারির শুরুতে, যখন আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিসিসিআই আইপিএল দল থেকে বাংলাদেশের মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেয়। পরে বাংলাদেশ নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে আইসিসির কাছে তাদের বিশ্বকাপ ম্যাচ ভারতের বাইরে আয়োজনের অনুরোধ জানায়। আইসিসি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ালে পাকিস্তান ক্ষুব্ধ হয়ে বয়কটের হুমকি দেয়।

এই বয়কট হুমকির কারণে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক আয় ঝুঁকিতে পড়ে। পরে আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত ম্যাচ কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ভারত ৬১ রানে জয় পায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইসিসির শীর্ষ প্রশাসকরা বিকল্প আয়োজক দেশ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের দেশে ম্যাচ আয়োজন করবে না। একই ধরনের সমঝোতা বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে, যদিও সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বিসিবি ও বিসিসিআইয়ের মধ্যে এ বিষয়ে এখনো আলোচনা হয়নি।

যদি এই উত্তেজনা সময়সূচি ও সম্প্রচার চুক্তিতে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করে, তবে আইসিসি ২০২৯ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি এবং ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ অস্ট্রেলিয়ায় সরিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে। উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়া ২০২৮ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজন করবে।

এর আগে অস্ট্রেলিয়া সফলভাবে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজন করেছে। ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৪১ হাজার ৫৮৭ দর্শক উপস্থিত ছিলেন এবং ২০২২ সালের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে রেকর্ড ৯০ হাজার ২৯৩ দর্শক ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ উপভোগ করেন। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার সময় অঞ্চল উপমহাদেশীয় টিভি বাজারের জন্যও অনুকূল বলে বিবেচিত হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

More News Of This Category
© All rights reserved © arshinagar tv 2025
Design & Develop BY Coder Boss