চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান অচলাবস্থা নিরসন এবং রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে ঘোষিত অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দেশের শীর্ষ চার ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক খোলা চিঠিতে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ), বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগে ধর্মঘট শুরু হলে দেশের অর্থনীতিতে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।
চিঠিতে স্বাক্ষর করেন বিইএফ সভাপতি ফজলে করিম এহসান, বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল।
চিঠিতে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, আপনার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও জবাবদিহিতায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরে অচলাবস্থা তৈরি হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ডাকা লাগাতার ধর্মঘট এবং বহির্নোঙরে কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণায় শিল্প ও বাণিজ্যে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, বন্দরে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীরা দেশের অর্থনীতির অগ্রযাত্রার অংশীদার। তাই জাতীয় স্বার্থে আন্দোলনকারী পক্ষ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দ্রুত সমাধান জরুরি।
চিঠিতে আরও বলা হয়, গত সাত দিন ধরে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে সংলাপ ও সমন্বয়ের চেষ্টা চালালেও আস্থার সংকটের কারণে কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। আন্দোলনকারীদের বহির্নোঙরে জাহাজ ভেড়ানো ও পণ্য খালাস বন্ধের ঘোষণায় পুরো বন্দর কার্যত অচল হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সম্ভাব্য ক্ষতির দিক তুলে ধরে ব্যবসায়ীরা বলেন—
দেশের ৯৯ শতাংশ কনটেইনার পরিবহন এবং ৭৮ শতাংশ সমুদ্রপথের বাণিজ্য চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হলে তৈরি পোশাকসহ প্রধান রফতানি খাতগুলো অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে।
রমজান সামনে রেখে ভোগ্যপণ্য ও শিল্পের কাঁচামালবাহী জাহাজ খালাস বন্ধ হলে কৃত্রিম সংকট তৈরি হবে এবং দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।
বন্দরে জাহাজ জট ও কার্যক্রম স্থবির থাকায় আমদানিকারকদের প্রতিদিন বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা ডেমারেজ চার্জ হিসেবে গুনতে হচ্ছে, যা জাতীয় অর্থনীতির জন্য বড় চাপ সৃষ্টি করছে।
এনসিটি ইজারা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে কর্মচারী ও বন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সংঘাতময় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ ও তদন্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, জাতীয় নির্বাচনের এই সংবেদনশীল সময়ে দেশের সরবরাহব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোনো ধরনের ব্যাঘাত কাম্য নয়। তাই সার্বিক স্বার্থ বিবেচনায় প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি হস্তক্ষেপে দ্রুত সমাধান প্রত্যাশা করেন তারা।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.