ভেনেজুয়েলায় হামলা ও দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর অপহরণের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার গ্রিনল্যান্ড দখল নিয়ে আগ্রাসী অবস্থান নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নিতে হবে—এমন মন্তব্য করে নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজনে গ্রিনল্যান্ড নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে যুক্তরাষ্ট্র “সহজ পথ বা কঠিন পথ—যে কোনো পথেই এগোতে পারে।” তার এই বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।
হোয়াইট হাউসের সাম্প্রতিক বক্তব্য অনুযায়ী, ডেনমার্কের অধীন স্বায়ত্তশাসিত এই ভূখণ্ডটি কিনে নেওয়ার বিষয়টি এখনও আলোচনায় রয়েছে। এমনকি জোরপূর্বক দখলের সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করা হয়নি। তবে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড—দুই পক্ষই স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়। ডেনিশ সরকার সতর্ক করে বলেছে, সামরিক পদক্ষেপ নিলে ন্যাটো জোটের ঐক্যই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
বিশ্বের সবচেয়ে কম জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর একটি হলেও, উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিক অঞ্চলের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, আর্কটিক নৌ চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং সামরিক নজরদারিতে এই অঞ্চলের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এরই মধ্যে গ্রিনল্যান্ডের পিটুফিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের শতাধিক সেনা স্থায়ীভাবে মোতায়েন রয়েছে।
তবে ট্রাম্পের দাবি, বিদ্যমান নিরাপত্তা চুক্তি যথেষ্ট নয়। তার ভাষায়, “৯ বছর বা ১০০ বছরের চুক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে না—মালিকানা থাকতে হয়।” একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, গ্রিনল্যান্ড রুশ ও চীনা জাহাজে পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে, যদিও এ দাবির পক্ষে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি।
ট্রাম্পের এই অবস্থানের পর ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে ইউরোপের প্রধান দেশগুলো ও কানাডা। এক যৌথ প্রতিক্রিয়ায় তারা জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার একমাত্র ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের। আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারের আহ্বান জানালেও, তারা একই সঙ্গে জাতিসংঘ সনদের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্তের অখণ্ডতার নীতির ওপর জোর দিয়েছে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.