ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যত নিয়ে দেশটি এখন একটি নির্ণায়ক মুহূর্তে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দেওয়ায় ফ্রেডেরিকসেন এই মন্তব্য করেছেন।
ডেনমার্কের রাজনীতিকদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে একটি দ্বন্দ্ব রয়েছে। এটি কেবল অঞ্চলটির ভবিষ্যতের বিষয় নয়, আন্তর্জাতিক আইনের এবং জনগণের স্ব-নির্ধারণাধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বড় ইস্যু।” তিনি আরও জানান, “ডেনমার্ক প্রয়োজনে আমাদের মূল্যবোধ রক্ষায় সর্বত্র প্রস্তুত, আর্কটিকেও।”
ফ্রেডেরিকসেনের মন্তব্যের আগে জার্মানি ও সুইডেন ট্রাম্পের দাবির বিরুদ্ধে ডেনমার্ককে সমর্থন জানায়।
সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন বলেন, “সুইডেন, নর্ডিক দেশগুলো, বাল্টিক রাষ্ট্রগুলো এবং অন্যান্য বড় ইউরোপীয় দেশ আমাদের ডেনমার্কীয় বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়েছে।” তিনি আরও সতর্ক করেন, “মিনারেল-সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড দখল আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হবে এবং অন্যান্য দেশকেও একই পথে উস্কে দিতে পারে।”
জার্মানি ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনে আলোচনার আগে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডকে সমর্থন জানিয়েছে।
যুক্তরাজ্য এবং অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলো ন্যাটো মিশনের মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাজ্যের ট্রান্সপোর্ট সচিব হেইডি আলেকজান্ডার বলেন, “আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের ক্রিয়াকলাপ নিয়ে আমাদের আলোচনা চলছেই। ন্যাটোর সঙ্গে সব মিত্রদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করা হচ্ছে।”
বেলজিয়ামের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী থিও ফ্রানকেন ন্যাটোর আর্কটিক অপারেশন প্রস্তাব করেছেন, যাতে ড্রোন, সেন্সর ও অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে সমুদ্র ও ভূমি পর্যবেক্ষণ করা যায়।
ট্রাম্প যুক্তি দিচ্ছেন, আর্কটিকে রাশিয়া ও চীনের সামরিক সক্রিয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করা মার্কিন নিরাপত্তার জন্য জরুরি।
তবে গ্রিনল্যান্ডের জনগণ স্পষ্টভাবে মার্কিন দখলকে বিরোধিতা করছে।
গ্রিনল্যান্ড ১৯৫৩ পর্যন্ত ডেনমার্কের কলোনি ছিল। ১৯৭৯ সালে হোম রুল পায় এবং বর্তমানে ডেনমার্কের সঙ্গে সম্পর্ক হ্রাসের সম্ভাবনা বিবেচনা করছে।
Leave a Reply
You must be logged in to post a comment.