জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দিতে পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, প্রস্তাবটি গ্রহণ না করলে ফিলিস্তিনিদের ‘মারাত্মক ও এড়ানো সম্ভব মানবিক বিপর্যয়ের’ ঝুঁকি আরও বাড়বে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের খসড়া প্রস্তাবকে চ্যালেঞ্জ করে পাল্টা প্রস্তাব উত্থাপন করেছে রাশিয়া—যেখানে ট্রাম্পের তৈরি করা বিতর্কিত “বোর্ড অব পিস” সম্পর্কিত কোনো উল্লেখই নেই।
মার্কিন মিশনের মুখপাত্র বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব নিয়ে বিভেদ সৃষ্টি হলে গাজায় যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হবে এবং পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। গত সপ্তাহে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট নিরাপত্তা পরিষদের সামনে ওয়াশিংটন আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের খসড়া প্রস্তাব উপস্থাপন করে।
মার্কিন প্রস্তাব: কী আছে?
এএফপির তথ্যমতে, মার্কিন খসড়ায় দুই বছর মেয়াদি একটি “অন্তর্বর্তী সরকার—Board of Peace” গঠনের কথা বলা হয়েছে, যার নেতৃত্বে থাকবেন ট্রাম্প। পাশাপাশি গাজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০ হাজার সেনার একটি অস্থায়ী আন্তর্জাতিক শান্তি বাহিনী (ISF) গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই বাহিনী—
অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করবে
বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দেবে
মানবিক করিডোরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে
ইসরাইল, মিশর এবং নবগঠিত ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করবে
ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন—মার্কিন সেনারা এই বাহিনীতে অংশ নেবে না। ইন্দোনেশিয়া, তুরস্ক, কাতার, ইউএই, মিশর ও আজারবাইজানের সঙ্গে অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানায় ওয়াশিংটন।
এ ছাড়া প্রথমবারের মতো খসড়ায় ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়। প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন হলে এবং পুনর্গঠন শুরু হলে ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হতে পারে বলেও উল্লেখ রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রস্তাবের ভাষা নিয়ে আলোচনায় ‘ভালো অগ্রগতি’ হচ্ছে এবং খসড়াটি গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নিরাপত্তা পরিষদের কিছু সদস্য যদিও প্রস্তাবটিকে সমর্থন দেখিয়েছে, তবুও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গেছে—
“বোর্ড অব পিস” কীভাবে পরিচালিত হবে?
বর্তমান ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী হবে?
ISF-এর পূর্ণ ম্যান্ডেট কী হবে?
এসব বিষয়ে মার্কিন খসড়ায় পরিষ্কার ব্যাখ্যা নেই।
এ অবস্থায় রাশিয়া নিরাপত্তা পরিষদে একটি পাল্টা প্রস্তাব পেশ করে। এতে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত “বোর্ড অব পিস” পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। রুশ মিশনের বিবৃতিতে বলা হয়—প্রস্তাবটির লক্ষ্য হলো “টেকসই শত্রুতা বন্ধে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য ও ঐক্যবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি” তৈরি করা।
গত ৮ অক্টোবর ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে ইসরাইল ও হামাস তাঁর ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে সম্মত হয়েছে, যা দুই বছরের সংঘাতের অবসান ঘটায়। যদিও যুদ্ধবিরতি বজায় থাকলেও ইসরাইল প্রায় প্রতিদিনই ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালিয়ে চুক্তি লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।