ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি মাকসুদ কামাল, জাসদ নেতা হাসানুল হক ইনু ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশনার প্রমাণ মিলেছে। ট্রাইব্যুনালের বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত জবানবন্দি প্রদান করেন। দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কোনো সাক্ষীর জবানবন্দি সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) থেকে ৬৯টি কল রেকর্ড ও তিনটি নম্বরের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটি কল রেকর্ডে আন্দোলন দমন নিয়ে শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশনার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
জবানবন্দিতে তিনি বলেন,
মাকসুদ কামালের সঙ্গে এক ফোনালাপে শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারদের মতো ফাঁসি’ দেয়ার কথা বলেন।
ফজলে নূর তাপসকে আশ্বস্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালানো ও মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ ইতিমধ্যেই দেয়া হয়েছে।
ইনুর সঙ্গে কথোপকথনে গণগ্রেফতার, ব্লক রেইড, বোমা নিক্ষেপ এবং গুলি চালানোর মতো নির্দেশনার বিষয় উঠে আসে।
তদন্ত কর্মকর্তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, এই কল রেকর্ডগুলো প্রমাণ করে যে, জুলাই আন্দোলন দমনে শেখ হাসিনা গণহত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
তবে ৬৯টি কল রেকর্ডের মধ্যে মাত্র ৮টি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাকি ৬১টি বিষয়ে প্রসিকিউশন এখনও কিছু প্রকাশ করেনি। শুধু জানানো হয়েছে, মাকসুদ কামালকে ঘিরে তদন্ত এখনো চলছে।
এই ঘটনা দেশব্যাপী আলোড়ন তুলেছে এবং রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।